আটলান্টিক মহাসাগরে চলাচলকারী প্রমোদতরী ‘এমভি হোন্ডিয়াস’-এ হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে করা হচ্ছে, তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন—এই ভাইরাস গুরুতর রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম।

দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রমোদতরী থেকে উদ্ধার হওয়া দুইজন যাত্রীর শরীরে হান্টাভাইরাসের একটি বিরল ও বিপজ্জনক ধরন ‘আন্দিজ স্ট্রেন’ শনাক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই স্ট্রেনটিই হান্টাভাইরাসের একমাত্র ধরন, যা মানুষের থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত হান্টাভাইরাস সংক্রমণের আটটি নিশ্চিত ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
আন্দিজ স্ট্রেন কী
হান্টাভাইরাস সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুর বা অন্যান্য রোডেন্ট প্রাণীর মল, প্রস্রাব বা লালার সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। ভাইরাসটির ৪০টিরও বেশি ধরন থাকলেও দক্ষিণ আমেরিকায় পাওয়া আন্দিজ স্ট্রেনটি তুলনামূলকভাবে ব্যতিক্রমী। এটি সীমিত পরিসরে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে সক্ষম বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এই ভাইরাস ‘হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিন্ড্রোম’ নামক মারাত্মক শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগের প্রধান কারণ। এটি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ধরনের ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ায়। ইঁদুরের বর্জ্য মিশ্রিত ধূলিকণা বা বাতাস শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।
সংক্রমণের ধরন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আন্দিজ স্ট্রেনের মানব-মানব সংক্রমণ এখন পর্যন্ত অত্যন্ত বিরল। সাধারণত এটি দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমিত থাকে। বিশেষ করে রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
লক্ষণসমূহ
প্রথম পর্যায়ে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, বমি ও পেটব্যথা দেখা দিতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে দ্রুত শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং ফুসফুসে তরল জমে শ্বাসযন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রোগের জটিলতা
গবেষণা অনুযায়ী, এই রোগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতা দেখা যায়—রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়া, শ্বেত রক্তকণিকা হ্রাস, লিভারের এনজাইম বৃদ্ধি এবং রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা। গুরুতর অবস্থায় দ্রুত শ্বাসযন্ত্র বিকল হয়ে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
অতীতের ঘটনা
২০১৮–১৯ সালে আর্জেন্টিনার চুবুট প্রদেশে এই ভাইরাসের একটি বড় প্রাদুর্ভাব ঘটে, যেখানে ৩৪ জন আক্রান্তের মধ্যে ১১ জনের মৃত্যু হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সরাসরি সংস্পর্শ ও ঘনিষ্ঠ পরিচর্যার মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল।
চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের জন্য নির্দিষ্ট কোনো টিকা বা কার্যকর অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


