ডিমকে সুপারফুড বলা হয়, কারণ এর মধ্যেই রয়েছে বিপুল পরিমাণ পুষ্টিগুণ। সহজলভ্য, কম খরচে পাওয়া যায় এবং রান্নায় ঝামেলাহীন এই খাবারটি দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে জনপ্রিয়। বিশেষ করে সকালের নাস্তায় সেদ্ধ ডিম অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।

একটি সেদ্ধ ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে। পাশাপাশি এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি১২, ডি, ই, আয়রন, সেলেনিয়াম, কোলিন, লুটেইন এবং জিয়াজ্যান্থিনসহ গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এসব উপাদান শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঠিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন দুটি সেদ্ধ ডিম গ্রহণ করলে শরীরে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটতে পারে।
হজমশক্তি বৃদ্ধি ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা
ডিমে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে বারবার ক্ষুধা লাগে না এবং অপ্রয়োজনীয় খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমে যায়। যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য সেদ্ধ ডিম একটি ভালো খাদ্য বিকল্প হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে দুটি সেদ্ধ ডিম খেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া সক্রিয় হয়। ডিম হজম করতে শরীর বেশি শক্তি ব্যয় করে, যাকে থার্মিক ইফেক্ট অব ফুড বলা হয়। এতে ক্যালরি পোড়ার হার বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ডিমে কার্বোহাইড্রেট কম থাকায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে দেয় না।
পেশি গঠনে সহায়তা করে
নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করা ব্যক্তিদের জন্য ডিম অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা প্রোটিন পেশি গঠন ও পুনর্গঠনে সাহায্য করে। শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনরুদ্ধারেও ডিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং বয়স্কদের জন্যও ডিম একটি ভালো পুষ্টির উৎস। এটি শরীরে শক্তি জোগায় এবং ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করে।
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি
ডিমের কুসুমে থাকা কোলিন মস্তিষ্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদান ও মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত কোলিন গ্রহণ স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। নিয়মিত ডিম খেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ভালো থাকে এবং বয়সজনিত স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।
চোখের সুরক্ষায় সহায়ক
ডিমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের জন্য উপকারী। এগুলো রেটিনাকে ক্ষতিকর আলো থেকে রক্ষা করে এবং বয়সজনিত চোখের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ডিম খেলে ছানি পড়া ও দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। যারা দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করেন, তাদের জন্য ডিম বিশেষভাবে উপকারী।
ত্বক, চুল ও নখের যত্নে সহায়ক
ডিমে থাকা ভিটামিন বি১২, সালফার ও বায়োটিন ত্বক, চুল ও নখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ডিম গ্রহণে চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং নখ শক্ত হয়। ত্বকের কোষ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াতেও ডিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, ফলে ত্বক আরও সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন ১ থেকে ২টি ডিম খেতে পারেন। তবে যাদের কোলেস্টেরল, হৃদরোগ বা অন্যান্য জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সেদ্ধ ডিম পরিমিতভাবে খাওয়া সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। অতিরিক্ত তেল বা মশলা দিয়ে রান্না করা ডিমের তুলনায় সেদ্ধ ডিম শরীরের জন্য বেশি উপকারী।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, হেলথলাইন, মেডিকেল নিউজ টুডে
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


