মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির গভীর থেকে সম্প্রতি এমন এক রহস্যময় সংকেত পাওয়া গেছে, যা বিজ্ঞানীদের ভাবনার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই সংকেত নিয়মিত ধারা অনুসারে আসে—প্রায় ঠিক ৪৪ মিনিটের ব্যবধানে। কখনো এটি রেডিও তরঙ্গ আকারে দেখা যায়, আবার কখনো এক্স-রে তরঙ্গ হিসেবে। এমন ছন্দময় সংকেতের উদাহরণ আগে কখনো পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞানীরা এই রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তুকে নাম দিয়েছেন ASX J18320911। এটি আমাদের সৌরজগত থেকে অনেক দূরে, মিল্কিওয়ের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের দিকে অবস্থান করছে। এখানে অসংখ্য নক্ষত্র, গ্যাস এবং মহাজাগতিক ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, কিন্তু এই বস্তুটির সংকেত এবং আলোর প্যাটার্ন অন্য সব কিছুর থেকে আলাদা।
নাসার চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরি এবং অস্ট্রেলিয়ার ASX রেডিও টেলিস্কোপ একসঙ্গে এই সংকেত শনাক্ত করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, রেডিও তরঙ্গ ও এক্স-রে সংকেত উভয়ই একই সময়ের ছন্দে পুনরাবৃত্তি করছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, উভয় সংকেতের পেছনে সম্ভবত একই প্রক্রিয়া কাজ করছে।
এই বস্তুটি লং-পিরিয়ড রেডিও ট্রানজিয়েন্ট নামে একটি বিরল শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। সাধারণ পালসার নক্ষত্র দ্রুত ঘোরে এবং ঘন ঘন সংকেত পাঠায়। কিন্তু ASX J18320911 অনেক ধীরে সংকেত পাঠায়, যা এটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর রেডিও অ্যাস্ট্রোনমি রিসার্চের বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি হয়তো কোনো অস্বাভাবিক নিউট্রন স্টার বা শক্তিশালী চুম্বকীয় কোনো ধ্বংসাবশেষ হতে পারে। তবে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের মহাজাগতিক বস্তুও হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই রহস্যময় সংকেত মহাকাশের উপর আমাদের বোঝাপড়াকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। আপাতত, দূর মহাকাশ থেকে এটি নীরবে সংকেত পাঠাচ্ছে, আর বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন সেই বার্তার রহস্য উদঘাটন করতে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


