মঙ্গলে অভিযান চালানো নাসার একটি রোভার সম্প্রতি সেখানে মাকড়সার জালের মতো দেখতে অদ্ভুত কিছু চিহ্ন শনাক্ত করেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার লাল গ্রহটির অতীত সম্পর্কে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সেখানে একসময় প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না—সে প্রশ্নটিও আবার আলোচনায় এসেছে।

মাকড়সা

Advertisement

রোভারটি যে চিহ্নগুলো পেয়েছে, সেগুলো ওপর থেকে দেখতে বিশাল মাকড়সার জালের মতো। তবে আসলে এগুলো ৩ থেকে ৬ ফুট উঁচু ছোট ছোট শক্ত রিজ বা উঁচু রেখা। এসব রেখা মঙ্গলের মাটির ওপর মাইলের পর মাইল জুড়ে ছড়িয়ে আছে। বিজ্ঞানীরা একে ‘বক্সওয়ার্ক’ গঠন বলছেন।

নাসা জানায়, অনেক বছর আগে মঙ্গলের ভূগর্ভে পানি প্রবাহিত হয়েছিল। সেই পানি পাথরের ফাটলের ভেতর দিয়ে বয়ে যায়। পানি শুকিয়ে গেলে সেখানে খনিজ পদার্থ জমে যায়। এতে ওই অংশ শক্ত হয়ে রিজ তৈরি হয়। পরে বাতাসে আশপাশের নরম মাটি ক্ষয়ে যায়। তখন এই জালের মতো নকশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

গত ছয় মাস ধরে কিউরিওসিটি এই অঞ্চল ঘুরে দেখছে। তবে কাজটি সহজ ছিল না। ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন অংশে অবস্থিত নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির প্রকৌশলী অ্যাশলি স্ট্রুপ বলেন, জায়গাটি অনেকটা মহাসড়কের মতো মনে হলেও নিচু অংশে নামলে চাকা বালিতে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবুও দলটি বিকল্প পথ খুঁজে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

রাইস ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী টিনা সিগার বলেন, পাহাড়ের অনেক ওপরে এমন গঠন পাওয়া মানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর একসময় বেশ উঁচুতে ছিল। অর্থাৎ, মঙ্গলে পানি আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সময় টিকে ছিল। এতে অণুজীবের (খুব ক্ষুদ্র জীব) অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনাও বাড়ে। এ ছাড়া রোভার ছোট ছোট গাঁটের মতো গঠনও খুঁজে পেয়েছে, যাকে নডিউল বলা হয়। এগুলো কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কিউরিওসিটি এখন মাউন্ট শার্প এলাকার সালফেটসমৃদ্ধ স্তর (এক ধরনের খনিজ) পরীক্ষা করছে। এর মাধ্যমে মঙ্গলের প্রাচীন জলবায়ু সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যাবে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Mynul Islam Nadim is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency for digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and audience-focused reporting.