মঙ্গলের বুকে কি একসময় প্রাণের অস্তিত্ব ছিল? এই প্রশ্ন আবারও নতুন করে সামনে এসেছে নাসার রোভার ‘কিউরিওসিটি’-র পাঠানো সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণের পর।

বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লাল গ্রহের মাটি খুঁড়ে এমন কিছু জৈব অণুর সন্ধান পাওয়া গেছে, যা আগে কখনো সেখানে পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে ‘নাইট্রোজেন হেটেরোসাইকেল’ নামের একটি অণুর উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কার্বন ও নাইট্রোজেন পরমাণু দিয়ে গঠিত এই বলয়াকার গঠনকে পৃথিবীতে ডিএনএ ও আরএনএ তৈরির প্রাথমিক উপাদান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়। অর্থাৎ, পৃথিবীতে প্রাণ সৃষ্টির জন্য যে ধরনের রাসায়নিক উপাদান প্রয়োজন, তারই কিছু উপাদান মঙ্গলের প্রাচীন শিলায় পাওয়া গেছে।
২০২০ সালে কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গলের ‘মাউন্ট শার্প’ অঞ্চলে ‘মেরি অ্যানিং ৩’ নামের একটি শিলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে। দীর্ঘ সময় ল্যাবরেটরিতে বিশ্লেষণের পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন, ওই শিলায় প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মতো জৈব উপাদান রয়েছে। গবেষকদের মতে, কোটি কোটি বছর আগে এই অঞ্চলে হ্রদ ও নদীর প্রবাহ ছিল, যা প্রাণের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।
তবে নাসা এখনই এটিকে জীবনের সরাসরি প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করছে না। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব অণু জৈবিক প্রক্রিয়ায় যেমন তৈরি হতে পারে, তেমনি আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ বা অন্যান্য ভূতাত্ত্বিক কারণেও সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
মিশন প্রজেক্টের বিজ্ঞানী অশ্বিন ভাসাবাদা এই আবিষ্কারকে কিউরিওসিটি রোভার ও তার গবেষক দলের জন্য বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই ফলাফল মঙ্গলে অতীতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
এর আগে মঙ্গলের কিছু শিলায় ‘লেপার্ড স্পট’ নামের দাগ পাওয়া গিয়েছিল, যা অনেক বিজ্ঞানীর মতে সম্ভাব্য জৈব প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। এবার নতুন এই আবিষ্কার সেই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এছাড়া নমুনায় ‘বেনজোথিওফিন’ নামের সালফারযুক্ত একটি যৌগও পাওয়া গেছে, যা সাধারণত উল্কাপিণ্ডে দেখা যায়। এতে প্রশ্ন উঠেছে—এই উপাদানগুলো কি মহাকাশ থেকে আসা উল্কার মাধ্যমে এসেছে, নাকি মঙ্গলের বুকেই কোনো সময় প্রাণের উপযোগী পরিবেশ ছিল?
নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের অগ্রগতির মধ্যেই মঙ্গলের এই নতুন তথ্য মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিজ্ঞানীরা এখন গভীরভাবে অনুসন্ধান করছেন, লাল গ্রহে প্রাণের রাসায়নিক ভিত্তি সত্যিই একসময় বিদ্যমান ছিল কি না।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


