শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলকে ঘিরে বাধা ও লাঞ্ছনার অভিযোগের মধ্যে শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই জয়ী হয়েছেন বিএনপিপন্থী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থীরা। এতে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মৃধা নজরুল কবির নির্বাচিত হয়েছেন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশন জানায়, নির্ধারিত পদগুলোর বিপরীতে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় বিএনপিপন্থী প্যানেলের প্রার্থীদের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচিত অন্যরা হলেন—সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান খান স্বপন, সহসভাপতি জাফর ইকবাল, যুগ্ম সম্পাদক সেলিম আহমদ, সহসাধারণ সম্পাদক এইচ এম লোকমান হোসাইন, অর্থ সম্পাদক রুহুল আমিন হাওলাদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুনিরা আক্তার, লাইব্রেরি সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, অডিট সম্পাদক এনামুল হক এনাম এবং সদস্য পদে আনোয়ার হোসেন খান, লুৎফর রহমান ঢালী, মনোয়ার হোসেন, জাকির হোসেন তালুকদার ও তৌহিদুল ইসলাম।
তবে নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্কও। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন আইনজীবী এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র কেনা ও জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু এ সময় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কিছু সদস্য ও বহিরাগতরা নির্বাচন কার্যালয়ের প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে অন্য প্যানেলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি কয়েকজন প্রার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল কবির বলেন, ‘আমরা আইনজীবী ফোরামের প্যানেল থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছি। এই বিজয়ে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতে আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে আইনজীবী সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করব।’
এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা সহকারী নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট রুবায়েত আনোয়ার মনির বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল ও চূড়ান্তকরণ সম্পন্ন হয়েছে। কোনো পদের বিপরীতে একাধিক প্রার্থী না থাকায় প্রাথমিকভাবে তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এদিকে নির্বাচন ঘিরে ওঠা অভিযোগ ও বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবী সমাজে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


