মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার চর শিলমন্দি এলাকার যুবক আরিফ হোসেন (৩৭) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ব্যবসায়িক লেনদেন ও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত আরিফ হোসেনের ছোট ভাই আকাশ বেপারী কসাইয়ের কাজের সূত্রে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার চরকিশোরগঞ্জ এলাকার নূর মোহাম্মদের কাছে প্রায় ৪৯ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। ওই টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
গত ১৩ জুন সকালে মুন্সীগঞ্জ শহরের মুন্সীরহাট এলাকায় আরিফ ও আকাশ পাওনা টাকা চাইতে গেলে নূর মোহাম্মদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নূর মোহাম্মদ টাকা পরিশোধ না করে আরিফকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে তিনি আরিফ ও তার ভাইয়ের বাড়িতেও গিয়ে খোঁজ নেন।
পরদিন ১৪ জুন বিকেলে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জমির নগর এলাকার একটি অনাবাদি জমি থেকে আরিফ হোসেনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা ফরিদা বেগম মুন্সীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১৩ জুন রাত থেকে ১৪ জুন ভোরের মধ্যে কোনো এক সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আরিফকে হত্যা করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে নূর মোহাম্মদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়।
পরে ১৭ জুন ভোরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



