সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফেরেন এক নারী। তবে সাত দিন পার হলেও তার নাম–পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। ওই নারী নিজেও পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারছেন না। বর্তমানে তিনি ঢাকার আশকোনায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের কর্মীদের হেফাজতে রয়েছেন। তার পরিবারের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ওয়েলফেয়ার সেন্টারের বিছানায় শুয়ে নিজের মতো গান গেয়ে চলেছেন ওই নারী। কখনো এলোমেলো কথা বলছেন তিনি।

ব্র্যাক জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তবে তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা অসংলগ্ন ছিল। তিনি নিজের বাড়ির ঠিকানা কিংবা পরিবারের ফোন নম্বর-কিছুই মনে করতে পারছেন না।
অসংলগ্ন অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) সদস্যরা তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। পরে তাঁর মানসিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক নিরাপদ আবাসন ও পরিবারের সন্ধানের জন্য ব্র্যাকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন অ্যাণ্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান সমকালকে জানান, ‘গত সাত দিন ধরে ওই নারী আমাদের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে অবস্থান করছেন। ব্র্যাকের মনোসামাজিক কাউন্সেলর ও প্রশিক্ষিত কর্মীরা তাঁর সঙ্গে নিয়মিত কথা বলার চেষ্টা করছেন। তবে তিনি নিজের সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছেন না। তাঁর কাছে কোনো পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র বা ব্যক্তিগত নথিপত্র পাওয়া যায়নি। তাঁর কাছে শুধু বিমানের একটা টিকিট ছিল। সেখানে প্রাথমিক পরিচয় রিজিয়া বেগম, পিতা/স্বামী: আব্দুর নুর শুধু এতোটুকু উল্লেখ আছে।
ধারণা করা হচ্ছে, তিনি জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সেইফ হোম থেকে দেশে ফিরেছেন। তবে তিনি নিজেকে মুসলমি এবং সৌদি এই দুটো শব্দ ছাড়া আর কিছুই বলছে না। এই নারীর পরিবারকে খুঁজে পেতে আমরা গণমাধ্যমসহ সবার সহায়তা চাইছি।’ যদি কেউ এই নারীর পরিচয় বা তাঁর পরিবারের সন্ধান জানেন, তবে অবিলম্বে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ব্যাবস্থাপক আল আমিন নয়নের এই নম্বরে ০১৭১২-১৯৭৮৫৪ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে ব্র্যাক।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
শরিফুল হাসান বলেন, কয়েক বছর ধরে এই ধরনের কয়েকশ’ নারী দুর্বিসহ অবস্থা নিয়ে বিদেশ থেকে ফিরেছেন। তারা এই ধরনের পরিস্থিতিতে ফিরে আসছেন তাদের জন্য স্বাধীনতার ৫ দশক পরও যথাযথ সহযোগিতার ব্যবস্থা সরকার করতে পারেনি। অনেকে আবার পরিবারের কাছেও ফেরত যেতে চায় না। কাউকে দীর্ঘ দিন মানসিক রোগের চিকিৎসা দিতে হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


