মহাকাশে নক্ষত্র কীভাবে জন্ম নেয় এবং সময়ের সঙ্গে কীভাবে তাদের পরিবর্তন ঘটে—এ বিষয়ে নতুন তথ্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নাসার জেমস ওয়েব ও হাবল মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রের যৌথ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বড় আকারের নক্ষত্রগুচ্ছ ছোটগুলোর তুলনায় অনেক দ্রুত নিজেদের চারপাশের গ্যাসমেঘ সরিয়ে ফেলতে সক্ষম।

নাসা জানিয়েছে, গবেষকেরা নিকটবর্তী চারটি ছায়াপথে থাকা হাজার হাজার তরুণ নক্ষত্রগুচ্ছ পর্যবেক্ষণ করেছেন। এতে দেখা যায়, বড় নক্ষত্রগুচ্ছ যে গ্যাসমেঘের ভেতরে জন্ম নেয়, তা থেকে তারা তুলনামূলক দ্রুত বের হয়ে আসে।
সাধারণভাবে মহাকাশে বিশাল গ্যাসমেঘ মহাকর্ষ বলের প্রভাবে সংকুচিত হয়ে নক্ষত্রের জন্ম দেয়। এরপর নক্ষত্রের শক্তিশালী বিকিরণ, নাক্ষত্রিক বাতাস এবং সুপারনোভা বিস্ফোরণের প্রভাবে আশপাশের গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ওই অঞ্চলে নতুন নক্ষত্র তৈরির প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। এই পুরো প্রক্রিয়াকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নাক্ষত্রিক প্রতিক্রিয়া বলে থাকেন।
গবেষণায় প্রায় নয় হাজার নক্ষত্রগুচ্ছ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু তখনও গ্যাসমেঘের আড়ালে ছিল, আবার কিছু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছিল। জেমস ওয়েবের অবলোহিত পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির কারণে ঘন গ্যাসমেঘের ভেতরের অবস্থাও জানা সম্ভব হয়েছে। এতে প্রতিটি নক্ষত্রগুচ্ছের বয়স ও ভর নির্ধারণ করা যায়।
‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, বড় নক্ষত্রগুচ্ছ প্রায় পঞ্চাশ লাখ বছরের মধ্যে চারপাশের গ্যাসমেঘ সরিয়ে ফেলে। অন্যদিকে ছোট নক্ষত্রগুচ্ছের ক্ষেত্রে এই সময় লাগে প্রায় সত্তর থেকে আশি লাখ বছর।
সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অ্যাঞ্জেলা আদামো বলেন, নক্ষত্রের জন্ম ও বিকাশ নিয়ে পূর্ববর্তী তাত্ত্বিক মডেলগুলো বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারেনি। নতুন এই পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
গবেষকদের মতে, গ্যাস দ্রুত সরে গেলে তরুণ নক্ষত্রের চারপাশে থাকা গ্রহ গঠনের উপাদানসমৃদ্ধ চাকতি অতিবেগুনি বিকিরণের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে গ্রহ গঠনের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের আশা, এই নতুন পর্যবেক্ষণ নক্ষত্র ও গ্রহের বিকাশ সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা দিতে সাহায্য করবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



