নড়াইল সদর উপজেলায় পাওনা টাকা আদায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির বসতঘরের টিন, বেড়া ও রান্নাঘরের খুঁটি খুলে নিয়ে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে পাওনাদারদের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের রুখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় ভুক্তভোগীর ৮০ বছর বয়সী দাদি খাদিজা বেগম ঘরের ভেতরে ছিলেন এবং কান্নাকাটি করলেও হামলাকারীরা থামেনি।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের জাফর সিকদারের ছেলে জাহিদ সিকদার বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে টাকা ধার নেন। পরবর্তীতে তিনি সেই টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান। টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মিজানুর বিশ্বাস, মিরাজ বিশ্বাস, মিকাইল বিশ্বাস ও ইয়াসিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি দল তার বাড়িতে গিয়ে ঘরের চালার টিন ও বেড়া খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরদিন আবারও গিয়ে তারা রান্নাঘরের চালা, খুঁটি ও ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র খুলে নিয়ে যায়। এ সময় ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে ছিলেন বৃদ্ধা খাদিজা বেগম।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা হঠাৎ এসে ঘরের টিন খুলে ভ্যানে করে নিয়ে যায়। তিনি বাধা দিতে গেলে স্থানীয় মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে সহযোগিতা চান, তবে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাননি বলেও দাবি করেন।
ভুক্তভোগীর বাবা জাফর সিকদার বলেন, দেশীয় অস্ত্রসহ কয়েকজন তার বসতঘর, রান্নাঘর ও গোয়ালঘরের টিন খুলে নিয়ে গেছে এবং ঘরের সব কিছু লুট করেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে অভিযুক্তদের একজন মিকাইল বিশ্বাস অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, জাহিদের কাছে তার পাওনা টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধ ছিল। ফোনটি বন্ধক রাখা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ ও ফোন উদ্ধারের জন্যই তারা এসব করেছে।
এ বিষয়ে মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্প জানায়, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই কথা জানিয়েছেন সদর থানার ওসি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


