গ্রীষ্ম এলেই বাজার ভরে ওঠে নানা জাতের আমে। তবে স্বাদ, ঘ্রাণ ও দীর্ঘসময় সংরক্ষণের সুবিধার কারণে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় সবসময়ই উপরের দিকে থাকে আম্রপালি। ছোট আকারের এই আমের গাঢ় মিষ্টি স্বাদ যেমন আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে, তেমনি এর নামের পেছনেও লুকিয়ে আছে ইতিহাসের এক আকর্ষণীয় কাহিনি।

ইতিহাসবিদদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে প্রাচীন ভারতের বৈশালি নগরে এক রাজউদ্যানে আমগাছের নিচে একটি শিশুকন্যাকে পাওয়া যায়। উদ্যানের রক্ষকই পরে শিশুটিকে লালন-পালন করেন। আম্রতলায় পাওয়া যাওয়ায় তার নাম রাখা হয় ‘আম্বপালি’ বা ‘আম্রপালি’।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আম্রপালি হয়ে ওঠেন বৈশালির অন্যতম খ্যাতিমান নর্তকী। সৌন্দর্য, নৃত্যগুণ ও ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি সে সময় ব্যাপক পরিচিতি পান। ইতিহাসে উল্লেখ আছে, পরবর্তীতে তাকে বৈশালির ‘নগরবধূ’ হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়। জীবনের শেষদিকে তিনি গৌতম বুদ্ধের অনুসারী হন বলেও জানা যায়।
এই ঐতিহাসিক চরিত্র থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৭৮ সালে ভারতের কৃষি গবেষকেরা নতুন উদ্ভাবিত এক জাতের আমের নাম রাখেন ‘আম্রপালি’। ‘দশেহরি’ ও ‘নীলাম’ জাতের সংকরায়নের মাধ্যমে তৈরি করা হয় এই জনপ্রিয় আম।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
আম্রপালি আমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর কম আঁশ, গাঢ় কমলা শাঁস ও অতিরিক্ত মিষ্টি স্বাদ। পাকার পর এর খোসা হলুদাভ-সবুজ রং ধারণ করে। সাধারণত জুনের শেষ দিক থেকেই বাজারে ভালো মানের পাকা আম্রপালি দেখা যায়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



