১৯৪২ সালের সময়ে বিদ্ধস্ত হওয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি যুদ্ধ বিমানের ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ এখনও অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে ধানক্ষেতে।

স্থানীয়রা জানান, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কালিয়ারডাঙ্গা ও শীমতপুর গ্রামের পাশের নিতনী বিলের হাওরে যুদ্ধ বিমানটি ঐ সময়ের কোনো এক সকালে ভূপাতিত হয়।
স্থানীয়দের দাবি, মাটির ওপর বিমানের সামান্য অংশ দৃশ্যমান হলেও এর বড় একটা অংশ মাটির নিচে দেবে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো রকম সরকারি পদক্ষেপ না থাকায় ধ্বংসাবশেষের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছে।
এলাকার শতবর্ষী কৃষক মাতাব মিয়া ও ইউসুফ মিয়াসহ আরও কয়েকজন জানান, ১৯৪২ সালের আশ্বিন মাসের এক সকালে কালিয়ারভাঙ্গা ও শ্রীমতপুর গ্রামের আকাশে একটি যুদ্ধবিমান কয়েকবার চক্কর দেয়।
একপর্যায়ে বিকট শব্দে বিমানটি নিতনী বিলের হাওরে ভূপাতিত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে অনেকে ছুটে গেলেও ঘন ধোঁয়ার কারণে প্রথমে কিছুই দেখতে পাননি।
পরে ধোঁয়া সরে গেলেও প্রায় ছয় দিন ধরে বিমানে আগুন জ্বলতে থাকে। দুর্ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণে কয়েকজন নিহত হওয়ার পর বহু বছর মানুষ ওই জায়গার পাশ দিয়েও যেতে সাহস করতো না। এখনো ওই জমির কাছে গেলে তাদের চোখের সামনে সেই ভয়াবহ স্মৃতি ভেসে ওঠে।
শ্রীমতপুর গ্রামের জানাল উদ্দিন ও মো. আলী মিয়া বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। যথাযথ উদ্যোগ নিলে যুদ্ধবিমানটি উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এতে নতুন প্রজন্ম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে বিধি মোতাবেক স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে জাদুঘরে নেওয়ার উদ্যোগ নেবো।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


