বাগেরহাটের বিশ্ব ঐতিহ্য হযরত খানজাহান আলী (র.) এর মাজার সংলগ্ন দিঘির একমাত্র ও সর্বশেষ মাদ্রাজি কুমিরটি অবশেষে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে দিঘির পূর্ব পাড় থেকে কুমিরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তাদের একটি বিশেষ দল। পরে সেটিকে খুলনার কয়রা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো খানজাহান আলী দিঘির দীর্ঘ ঐতিহাসিক ‘কুমির অধ্যায়’।
গত সোমবার রাতে মাজার দিঘির ঘাটে গোসল করতে নেমে কুমিরের আক্রমণে আহত হয় ৮ বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার। কুমিরটি শিশুটিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যাওয়ার প্রায় ৯ ঘণ্টা পর দিঘির মহিলা ঘাট এলাকায় তার মরদেহ ভেসে ওঠে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মাজার এলাকায় আগত দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দিঘির একমাত্র মাদ্রাজি কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে তিনি জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুমিরটিকে সাময়িকভাবে খুলনার করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হবে।
মাজারের ইতিহাস অনুযায়ী, শত শত বছর ধরে এই দিঘিতে হযরত খানজাহান আলী (র.) এর স্মৃতিবিজড়িত কুমির ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’-এর বংশধরেরা বসবাস করত। পরবর্তীতে নানা কারণে সেই আদি কুমির প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়।
২০০৫ সালে ঐতিহ্য রক্ষার অংশ হিসেবে ভারত থেকে ছয়টি মাদ্রাজি কুমির উপহার হিসেবে আনা হয় এবং দিঘিতে অবমুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে কিছু কুমির মারা যায় এবং কয়েকটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত একটি পুরুষ মাদ্রাজি কুমিরই দিঘিতে টিকে ছিল।
বুধবার দুপুরে বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল ফাঁদ ও জাল ব্যবহার করে সতর্কতার সঙ্গে কুমিরটিকে নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সেটিকে নিরাপদ খাঁচায় করে কয়রা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
বন বিভাগ ও মাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, কুমিরটি স্থানান্তরের ফলে এখন দিঘি সম্পূর্ণ কুমিরশূন্য। নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও মাজারের ঐতিহ্যবাহী ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তিতে স্থানীয় ও দর্শনার্থীদের মধ্যে এক ধরনের শূন্যতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে।
মাজারের প্রধান খাদেম তারিকুল ইসলাম বলেন, ঐতিহ্য রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা সর্বাধিক অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। বর্তমানে দিঘির কুমিরটি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুমিরটিকে আপাতত বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার স্থায়ী অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



