ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হওয়া স্ট্রিট ফুড, বিশেষ করে চটপটি ও ফুচকার মতো জনপ্রিয় খাবারে ভয়াবহ মাত্রার জীবাণু পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও পরীক্ষায় দেখা গেছে, এক প্লেট চটপটিতে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, এক প্লেট চটপটিতে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সালমোনেলা ও ভিব্রিওসহ অন্যান্য ক্ষতিকর জীবাণুও শনাক্ত হয়েছে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো মূলত মানব ও প্রাণীর মলমূত্র থেকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ডায়রিয়া, পেটের সংক্রমণসহ নানা জটিল রোগের কারণ হতে পারে।
রাজধানীর গুলিস্তান, মিরপুর ও ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি না মানার চিত্র পাওয়া গেছে। ময়লা পানিতে বাসন ধোয়া, খোলা পরিবেশে খাবার রাখা, একই তেল বারবার ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর বরফ ব্যবহারের কারণে খাবারে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রাজধানীর ৩৭টি এলাকা থেকে ৪৫০টি নমুনা পরীক্ষা করে চটপটি, ছোলা-মুড়ি, স্যান্ডউইচ ও আখের রসে ই-কোলাই, সালমোনেলা ও ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পেয়েছে। চটপটিতে সংক্রমণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।
গবেষকদের মতে, ঢাকার পানির উৎস ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অপরিচ্ছন্ন পানি ব্যবহারের কারণে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে। ফুটপাতের অনেক বিক্রেতাই সরাসরি দূষিত পানি ব্যবহার করছেন, ফলে খাবার দ্রুত দূষিত হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)-এর ২০১৯ সালের গবেষণাতেও রাজধানীর বিভিন্ন স্ট্রিট ফুডে বিপজ্জনক মাত্রার কলিফর্ম ও ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার এখন “নীরব ঘাতকে” পরিণত হয়েছে। তাদের মতে, আইন থাকলেও কার্যকর প্রয়োগ ও নিয়মিত নজরদারির অভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। কঠোর শাস্তি ও জনসচেতনতা ছাড়া এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


