অনেকেই পেঁপে খাওয়ার পর বীজ ফেলে দেন, কিন্তু এই ছোট ছোট কালো বীজ স্বাস্থ্যগুণে কোনো সুপারফুডের কম নয়। ডায়েটিশিয়ান ও হেলথ কোচ বিধি চাওলা জানিয়েছেন, পেঁপের বীজে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিন থাকে। এছাড়া এতে ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানও রয়েছে। পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই বীজ শরীরকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সহায়ক।

ওজন কমাতে সহায়ক:
যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের ডায়েটে পেঁপের বীজ রাখা উপকারী হতে পারে। এতে থাকা ফাইবার হজমকে সাহায্য করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে বারবার ক্ষুধার অনুভূতি কমে এবং ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। উচ্চ ফাইবারযুক্ত ডায়েট ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, গবেষণায় তা প্রমাণিত হয়েছে।
পেট ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য:
পেঁপের বীজে থাকা ‘কারপেইন’ নামের উপাদান ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও অন্ত্রের কৃমি দূর করতে সহায়ক। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফোলা ও হজমজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে কার্যকর।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ:
হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্য কোলেস্টেরলের ভারসাম্য অপরিহার্য। পেঁপের বীজে থাকা ফাইবার খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে, ভালো কোলেস্টেরল বজায় রাখে। এতে থাকা ওলেইক অ্যাসিডও হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
নারীদের স্বাস্থ্য:
অনেক নারী ঋতুচক্রের সময় ব্যথায় ভোগেন। পেঁপের বীজে থাকা ক্যারোটেনয়েডস ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে, এটি পিরিয়ড ক্র্যাম্প কমাতেও সহায়ক, যদিও এ বিষয়ে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন।
ফুড পয়জনিং প্রতিরোধ:
পেঁপের বীজের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য ই. কোলাইয়ের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। তাই ফুড পয়জনিং প্রতিরোধেও এটি প্রাকৃতিক সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ডিটক্স:
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই বীজ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং লিভারের ডিটক্স প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে। নিয়মিত, কিন্তু পরিমিতভাবে খেলে শরীর ভেতর থেকে পরিষ্কার থাকে।
পেঁপের বীজ খাওয়ার উপায়:
-রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে স্যালাডে ছড়িয়ে খাওয়া।
-দই বা সসের সঙ্গে মেশানো।
-হালকা ঝাঁঝালো স্বাদের জন্য গোলমরিচের বিকল্প হিসাবেও ব্যবহার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে এক টেবিলচামচ পর্যন্ত পেঁপের বীজ খাওয়াই যথেষ্ট। অতিরিক্ত খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে, তাই পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


