পেটব্যথা একটি খুবই সাধারণ শারীরিক সমস্যা। প্রায় সবাই কোনো না কোনো সময় এ ধরনের অস্বস্তিতে ভোগেন। কখনো এটি সাময়িক গ্যাস, বদহজম বা হালকা অসুস্থতার কারণে হয়, আবার কখনো এটি গুরুতর রোগেরও ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই ব্যথার ধরন, সময়কাল ও সঙ্গে থাকা উপসর্গ ভালোভাবে বোঝা জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হয়।

ওয়েবমেডের এক প্রতিবেদনে পেটব্যথার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ রোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্যাস্ট্রাইটিস
পাকস্থলীতে খাদ্য হজমের জন্য যে রস তৈরি হয়, তাতে অ্যাসিড থাকে। এই অ্যাসিড কখনো পাকস্থলীর ভেতরের সুরক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যাকে গ্যাস্ট্রাইটিস বলা হয়।
ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার, অতিরিক্ত মদ্যপান ও মানসিক চাপ এর কারণ হতে পারে। অবহেলা করলে পাকস্থলীতে আলসার বা রক্তক্ষরণও হতে পারে।
পেপটিক আলসার
পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্রের উপরের অংশে ক্ষত সৃষ্টি হলে তাকে পেপটিক আলসার বলা হয়। এর প্রধান কারণ ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ। দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন, ধূমপান ও মদ্যপান ঝুঁকি বাড়ায়।
চিকিৎসায় সাধারণত অ্যাসিড কমানোর ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।
অ্যাপেন্ডিসাইটিস
পেটের ডান পাশে থাকা ক্ষুদ্র অঙ্গ অ্যাপেন্ডিক্সে প্রদাহ হলে তাকে অ্যাপেন্ডিসাইটিস বলা হয়। ব্যথা সাধারণত নাভির আশপাশ থেকে শুরু হয়ে ডান পাশে ছড়িয়ে পড়ে।
সময়মতো চিকিৎসা না করলে এটি মারাত্মক হতে পারে।
গলব্লাডার অ্যাটাক
পিত্তথলিতে পাথর তৈরি হয়ে নালিতে আটকে গেলে তীব্র পেটব্যথা হয়। এর সঙ্গে বমি, জ্বর ও প্রস্রাব-পায়খানার রঙ পরিবর্তন হতে পারে।
জটিল অবস্থায় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়।
ইনকারসারেটেড হার্নিয়া
পেটের ভেতরের অঙ্গ পেটের দেয়াল ভেদ করে বাইরে চলে এলে এবং রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে তীব্র ব্যথা হয়।
এটি জরুরি চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য
পর্যাপ্ত পানি না পান করা, আঁশযুক্ত খাবারের অভাব ও অনিয়মিত জীবনযাপন কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে।
দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্যানক্রিয়াটাইটিস
অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ হলে পেটের উপরের অংশে তীব্র ব্যথা হয়, যা খাওয়ার পর বেড়ে যেতে পারে। বমিভাবও দেখা দিতে পারে।
গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।
স্টমাক ভাইরাস
এটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা বমি, ডায়রিয়া ও পেট মোচড়ের কারণ হয়। সাধারণত নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে পানিশূন্যতা হলে চিকিৎসা জরুরি।
ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ
এটি অন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ। এতে ডায়রিয়া, পেটব্যথা, জ্বর ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
ওষুধ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ডাইভার্টিকুলাইটিস
বৃহদান্ত্রের দেয়ালে ছোট থলির মতো অংশে প্রদাহ হলে পেটব্যথা ও হজমের সমস্যা দেখা দেয়।
ফুড পয়জনিং
দূষিত খাবার গ্রহণের ফলে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস সংক্রমণ হলে ফুড পয়জনিং হয়। এতে ডায়রিয়া ও বমি দেখা দেয়।
দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসা প্রয়োজন।
ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম
এটি অন্ত্রের কার্যকারিতাজনিত সমস্যা। এতে পেট ফাঁপা, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে।
খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা পরিবর্তনে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার হজমে সমস্যা হলে ডায়রিয়া, গ্যাস ও পেটব্যথা দেখা দিতে পারে।
ল্যাকটোজযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললে সমস্যা কমে।
পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ
এটি নারীদের প্রজনন অঙ্গের সংক্রমণজনিত রোগ। এতে পেটব্যথা, জ্বর ও অস্বাভাবিক স্রাব দেখা দিতে পারে।
সময়ে চিকিৎসা না নিলে জটিলতা বাড়ে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



