দুই দশক আগে সৌরজগতের গ্রহ তালিকা থেকে বাদ পড়া প্লুটোকে আবার পূর্ণাঙ্গ গ্রহ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে। নাসার প্রধানের প্রকাশ্য সমর্থন এবং সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা এই পুরোনো বিতর্ককে আবারও আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থা (আইএইউ) প্লুটোর গ্রহের মর্যাদা বাতিল করে তাকে ‘বামন গ্রহ’ হিসেবে পুনর্বিন্যস্ত করে। একই বছর আইএইউ প্রথমবারের মতো গ্রহের একটি আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা নির্ধারণ করে। ওই সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো জ্যোতিষ্ককে গ্রহ হিসেবে গণ্য হতে হলে সূর্যের চারদিকে পরিভ্রমণ করতে হবে, নিজের মাধ্যাকর্ষণে প্রায় গোলাকার আকৃতি ধারণ করতে হবে এবং নিজের কক্ষপথের আশপাশের বস্তুসমূহ পরিষ্কার করতে সক্ষম হতে হবে। প্লুটো প্রথম দুটি শর্ত পূরণ করলেও তৃতীয় শর্তে উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
প্লুটো সৌরজগতের প্রান্তবর্তী কুইপার বেল্ট অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে অসংখ্য বরফাচ্ছন্ন বস্তু ও বামন গ্রহ রয়েছে। এই একই কক্ষপথ অঞ্চলে অবস্থানের কারণে প্লুটো তার কক্ষপথ সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করতে সক্ষম নয় বলে বিবেচিত হয়। তবে সমালোচকদের মতে, পৃথিবী ও বৃহস্পতির কক্ষপথেও বহু গ্রহাণু ও ক্ষুদ্র বস্তু রয়েছে, তবুও সেগুলোকে গ্রহ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
২০১৫ সালে নাসার নিউ হরাইজনস মহাকাশযান প্লুটোর নিকটতম ছবি পাঠায়। সেই ছবিতে দেখা যায়, প্লুটোর পৃষ্ঠে রয়েছে পাহাড়, নাইট্রোজেন বরফের হিমবাহ, বিস্তৃত সমতলভূমি এবং জটিল ভূতাত্ত্বিক কাঠামো। এই আবিষ্কার প্লুটোকে ‘নিষ্ক্রিয় বরফগোলক’ হিসেবে দেখার প্রচলিত ধারণা বদলে দেয়।
সম্প্রতি নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট শুনানিতে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্লুটোকে আবার গ্রহ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে। তিনি জানান, নাসা এ বিষয়ে একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র প্রস্তুত করছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপন করে ২০০৬ সালের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়।
তবে বিষয়টি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতর্ক করে বলেছেন, প্লুটোকে আবার গ্রহের মর্যাদা দিলে কুইপার বেল্টে থাকা শত শত অনুরূপ জ্যোতিষ্ককেও গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করার প্রশ্ন উঠবে, যা গ্রহের সংজ্ঞাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বর্তমানে মহাজাগতিক বস্তুর শ্রেণিবিন্যাসের চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হলো আইএইউ। ফলে প্লুটোর ভবিষ্যৎ মর্যাদা নির্ভর করছে নতুন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, আন্তর্জাতিক ঐকমত্য এবং চলমান জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিতর্কের ওপর।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


