ইসবগুল বা সাইলিয়াম হস্ক দীর্ঘদিন ধরেই হজমের সমস্যায় ঘরোয়া সমাধান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা থেকে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখা—বহু উপকারিতার কারণে এটি অনেকের নিত্যসঙ্গী। তবে জনপ্রিয়তার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে কিছু ভুল ধারণাও।

ফিটনেস কোচ রালস্টন ডি’সুজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসবগুল নিয়ে প্রচলিত পাঁচটি ভুল ধারণা তুলে ধরে সেগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
ইসবগুল প্রাকৃতিক নয়—এই ধারণা ভুল
ইসবগুল আসে Plantago ovata গাছের বীজের বাইরের আবরণ থেকে। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং দ্রবণীয় ফাইবারে সমৃদ্ধ। অনেকেই একে প্রক্রিয়াজাত বা কৃত্রিম ভাবলেও বাস্তবে এটি সরাসরি উদ্ভিদজাত উপাদান।
ইসবগুল খেলে নির্ভরতা তৈরি হয়—সত্য নয়
ইসবগুল কোনো স্টিমুল্যান্ট ল্যাক্সেটিভ নয়। এটি অন্ত্রকে জোর করে কাজ করায় না। বরং পানি শোষণ করে জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে, যা মলকে নরম ও আকারযুক্ত করে স্বাভাবিকভাবে বের হতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত খেলেও শরীর এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে না।
ইসবগুল গ্যাস তৈরি করে
হঠাৎ বেশি পরিমাণে যেকোনো ফাইবার গ্রহণ করলে গ্যাস বা পেট ফাঁপা হতে পারে। ইসবগুলও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে সমস্যা ইসবগুলে নয়, বরং একসঙ্গে বেশি খাওয়ার কারণে। ধীরে ধীরে শুরু করা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।
প্রতিদিন খাওয়া ক্ষতিকর—এই ধারণা সঠিক নয়
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে প্রায় ২৫–৩০ গ্রাম ফাইবার প্রয়োজন। অনেকের খাদ্যতালিকায় এই ঘাটতি থাকে। সেক্ষেত্রে নিয়ম মেনে প্রতিদিন ইসবগুল খাওয়া নিরাপদ হতে পারে, বিশেষ করে পর্যাপ্ত পানি পান করলে।
ইসবগুলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে
সঠিক নিয়ম মেনে খেলে ইসবগুল সাধারণত নিরাপদ। তবে কখনোই শুকনো অবস্থায় খাওয়া উচিত নয়। এক গ্লাস পানি বা তরলের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে, যাতে এটি সঠিকভাবে ফুলে গিয়ে কাজ করতে পারে। শুরুতে দিনে এক চা-চামচ দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ানো ভালো।
সঠিক তথ্য জানা থাকলে ইসবগুল একটি সহজ, প্রাকৃতিক ও কার্যকর ফাইবার সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যায়। নিয়ম মেনে ও পর্যাপ্ত পানি পান করে গ্রহণ করলে এটি হজমের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


