সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে জাতীয় ঐক্য ও সহনশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকা স্বাভাবিক হলেও তা যেন কখনোই শত্রুতার রূপ না নেয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দলীয় সংকীর্ণতার বাইরে গিয়ে জাতীয় নেতাদের অবদান যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করা প্রয়োজন। ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সবার। ঐতিহাসিক সত্য অস্বীকার করা বা বিকৃত করা হীনমন্যতার পরিচয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল সবসময় সক্রিয় থাকতে পারে। তাই জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা এবং বিভাজন এড়িয়ে চলা এখন সময়ের দাবি।
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।” এই বার্তার আলোকে তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, সমাজসেবা ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। এবছর ১৫ জন ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরের অর্জনের পরও দেশে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। একটি স্বনির্ভর ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন।
নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নারীর নিরাপদ অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
সবশেষে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের অবদান জাতির জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের থেকে শিক্ষা নেবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


