স্মার্ট ডিভাইসের বাজারে নতুন চমক নিয়ে এসেছে শাওমি। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি চীনে উন্মোচন করেছে নতুন ওপেন-ইয়ার ওয়্যারলেস ইয়ারবাড ‘শাওমি ক্লিপ’। একই অনুষ্ঠানে তারা আরও উন্মোচন করেছে শাওমি ১৭ ম্যাক্স এবং শাওমি স্মার্ট ব্যান্ড ১০ প্রো। তবে নতুন এই ইয়ারবাডের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ফিচারগুলো ইতোমধ্যে প্রযুক্তিপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

নতুন শাওমি ক্লিপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ওপেন-ইয়ার ক্লিপ-অন ডিজাইন। ফলে দীর্ঘ সময় ব্যবহারের সময় কানে চাপ কম পড়ে। যারা অফিস, জিম বা বাইরে কাজের সময় ইয়ারবাড ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি তুলনামূলকভাবে বেশি আরামদায়ক হতে পারে।
অডিও পারফরম্যান্সের দিক থেকেও এতে শক্তিশালী প্রযুক্তি যুক্ত করেছে শাওমি। এতে রয়েছে ১১ মিমি ডাইনামিক ড্রাইভার এবং এলএইচডিসি ৫.০ অডিও কোডেক সাপোর্ট, যা উচ্চমানের শব্দ উপভোগের সুযোগ দেবে। পাশাপাশি এতে রয়েছে হাই-রেজোলিউশন ওয়্যারলেস অডিও সার্টিফিকেশন। কলের সময় উন্নত ভয়েস কোয়ালিটির জন্য ট্রিপল-মাইক্রোফোন সিস্টেম ও বোন-কনডাকশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা আশপাশের শব্দ কমিয়ে কণ্ঠকে আরও স্পষ্ট করবে।
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে এর এআই ফিচারগুলো। শাওমি ক্লিপে রয়েছে রিয়েল-টাইম ট্রান্সক্রিপশন, লাইভ কল অনুবাদ, মুখোমুখি কথোপকথনের তাৎক্ষণিক অনুবাদ এবং এআই-ভিত্তিক সারসংক্ষেপ তৈরির সুবিধা। এমনকি লেকচার বা ভিডিও চলাকালেও লাইভ ইন্টারপ্রিটেশন ব্যবহার করা যাবে। ব্যবহারকারীরা চার্জিং কেস থেকেই ভয়েস রেকর্ডিং চালু বা বন্ধ করতে পারবেন।
ইয়ারবাডটিতে শাওএআই সহকারী যুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম এবং আরও স্বাভাবিক কথোপকথনের অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
কানেক্টিভিটির জন্য এতে রয়েছে ব্লুটুথ ৫.৪ এবং ডুয়াল-ডিভাইস কানেকশন সুবিধা। অর্থাৎ একই সঙ্গে দুটি ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত রাখা যাবে। এটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন—উভয় প্ল্যাটফর্মেই কাজ করবে। পাশাপাশি অ্যাপলের ফাইন্ড মাই সাপোর্ট থাকায় হারিয়ে গেলে ইয়ারবাড বা চার্জিং কেস সহজে খুঁজে পাওয়া যাবে।
ব্যাটারির ক্ষেত্রেও ভালো পারফরম্যান্সের দাবি করেছে শাওমি। একবার চার্জে প্রায় ৯ ঘণ্টা এবং চার্জিং কেসসহ মোট প্রায় ৩৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। এতে দ্রুত চার্জিং সুবিধাও রয়েছে, যেখানে মাত্র ১০ মিনিট চার্জে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত মিউজিক প্লেব্যাক সম্ভব।
চীনে শাওমি ক্লিপের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪৯ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ হাজার টাকার কাছাকাছি। বর্তমানে এটি কয়েকটি রঙে চীনের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


