সাইফুল ইসলাম : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে তিন চাকার যানবাহন। এতে ঈদ যাত্রায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ অংশে প্রতিদিনই অসংখ্য তিন চাকার যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজির বেপরোয়া চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। মহাসড়কের নিয়ম না মেনে উল্টো পথে চলাচল, হঠাৎ লেন পরিবর্তন, ব্যস্ত সড়কে যাত্রী ওঠানামা এবং অনিয়ন্ত্রিত গতিতে চলাচলের কারণে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
আইন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সরকার ২২টি মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ সব ধরনের তিন চাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ করে। পরে ২০১৭ সালে হাইকোর্টও মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সর্বশেষ ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের (এনআরএসসি) এক বৈঠকে ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত পাঁচটি মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলের নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই পাঁচটি মহাসড়কের মধ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কও রয়েছে। তবে মানিকগঞ্জ অংশে এখনও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যান চলাচল অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজির সংখ্যা বেশি দেখা যায়।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ অংশে দুটি হাইওয়ে থানা রয়েছে—গোলড়া হাইওয়ে থানা ও বরংগাইল হাইওয়ে থানা। তবে দুটি থানা থাকা সত্ত্বেও তিন চাকার যান নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার সীমান্তবর্তী বারবাড়িয়া ব্রিজের ঢাল থেকে আরিচা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সড়কে নিয়মিত দেখা মেলে এসব যানবাহনের। সবচেয়ে বেশি চলাচল করতে দেখা যায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিকে। এসব যানবাহন অনিয়ন্ত্রিতভাবে মহাসড়কে চলাচল করে। সিগন্যাল বা সড়ক আইনের তোয়াক্কা না করায় দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

মহাসড়কের জন্য ‘বিষফোঁড়া’ হিসেবে পরিচিত এই তিন চাকার যানবাহনের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে বড় যানবাহনগুলো। সংশ্লিষ্টদের মতে, অনেক সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণই হচ্ছে এসব থ্রি-হুইলার। সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলেও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অবাধে চলছে যানগুলো।
মিনিবাস চালক সুমন হোসেন বলেন, “এখন ঈদের সময় গাড়ির চাপ বেশি। তিন চাকার গাড়িগুলো হঠাৎ সামনে চলে আসে। তখন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, ফলে দুর্ঘটনা ঘটে।”
মোটরসাইকেল চালক শাওয়াল বলেন, “থ্রি-হুইলারের কারণেই মহাসড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এরা ডানে-বামে না তাকিয়ে হঠাৎ মোড় নেয়, এতে বড় যানবাহন ও মোটরসাইকেল চালকেরা বিপাকে পড়েন।”
সেলফি পরিবহনের বাসচালক জব্বার বলেন, “বড় গাড়ি চাইলেই সঙ্গে সঙ্গে থামানো যায় না। ঈদকে সামনে রেখে এখন সড়কে গাড়ির চাপও বেশি। এর মধ্যে তিন চাকার যান হঠাৎ সামনে চলে এলে দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে।”
গোলড়া হাইওয়ে থানার পরিদর্শক দেওয়ান কৌশিক আহমেদ বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে গাড়ি আটক করছি এবং মামলা দিচ্ছি। কিন্তু তারা মামলা ছাড়িয়ে আবারও মহাসড়কে নামে। এটি পুরোপুরি বন্ধ করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
বরংগাইল হাইওয়ে থানার ওসি মো. হারুন অর রশিদ বলেন, “মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল বন্ধে আমরা মাইকিং করেছি এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।”

এর আগে, সোমবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ভাটবাউর এলাকায় লিকুইড অক্সিজেনবাহী একটি লরির সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটিতে আগুন ধরে যায় এবং অল্পের জন্য রক্ষা পান অর্ধশতাধিক যাত্রী। এছাড়া মঙ্গরবার দুপুরে মহাসড়কটির পুখুরিয়া ঢাকা এলাকায় গার্মেন্টস কর্মীবাহী বাস খাদে পড়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়। তিন চাকার যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে এই মহাসড়কে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা এই মহাসড়কে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



