অনেকদিন ধরেই ওজন বৃদ্ধির জন্য কার্বোহাইড্রেটকে প্রধান ‘দোষী’ হিসেবে ধরা হয়। ওজন কমাতে চাইলেই ভাত, রুটি, আলু বা ফলের মতো খাবার সবার আগে বাদ দেন অনেকে। তবে এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন ভারতের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর, যিনি ৮৫ কেজি ওজন কমিয়ে জানিয়েছেন- কার্ব নয়, বরং খাওয়ার পদ্ধতিই আসল বিষয়। খবর এনডিটিভি

প্রাঞ্জল পান্ডে নামের ওই নারী নিজের ওজন ১৫০ কেজি থেকে কমিয়ে ৬৫ কেজিতে এনেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তিনি কার্ব খাওয়ার সঠিক উপায় নিয়ে একটি গাইড শেয়ার করেন, যা দ্রুতই সবার নজর কাড়ে।
সময় বুঝে কার্ব খাওয়ার পরামর্শ
প্রাঞ্জলের মতে, কার্ব খাওয়ার সেরা সময় তখনই, যখন শরীরের শক্তির প্রয়োজন বেশি থাকে। যেমন- ব্যায়ামের আগে ও পরে, অথবা দিনের শুরুর দিকে। এ সময়ে খেলে শরীর কার্বকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে। বিপরীতে, রাতে দেরিতে ভারী কার্বযুক্ত খাবার খেয়ে শারীরিক পরিশ্রম না করলে তা চর্বি হিসেবে জমতে পারে।
প্রক্রিয়াজাত নয়, প্রাকৃতিক কার্ব
সব কার্ব একরকম নয় বলেও জানান তিনি। খাবারের তালিকায় রাখতে বলেন- ভাত, রুটি, মিলেট, ওটস, আলু ও ফল। অন্যদিকে বিস্কুট, প্যাকেটজাত জুস বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। এসব খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায় এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি করে।
কার্ব একা নয়, সঙ্গে চাই প্রোটিন-ফাইবার
কার্ব কখনও একা খাওয়া উচিত নয় বলেও উল্লেখ করেন প্রাঞ্জল। তার ভাষায়, সঠিকভাবে খাবার মেলালে ‘পুরো খেলাই বদলে যায়’। কার্বের সঙ্গে প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখলে পেট দীর্ঘসময় ভরা থাকে এবং হঠাৎ খিদে বা ক্লান্তি আসে না।
বাদ নয়, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ
লো-কার্ব ডায়েটকে তিনি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর মনে করেন না। বরং অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ পরে বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি করে, যা ওজন কমার গতি থামিয়ে দেয়। তাই পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
কাজের ধরন অনুযায়ী কার্ব
দিনের শারীরিক কার্যক্রম অনুযায়ী কার্বের পরিমাণ ঠিক করার কথাও বলেন প্রাঞ্জল। কঠোর ব্যায়ামের দিনে কার্ব বেশি, বিশ্রামের দিনে কম, আর একেবারে বসে থাকা দিনে ছোট পরিমাণই যথেষ্ট।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
প্রাঞ্জলের কথায়, শূন্য কার্ব কখনোই সমাধান নয়। তার মতে, মানুষ কার্ব খাওয়ার কারণে নয়, বরং কীভাবে, কখন এবং কতটা কার্ব খায় সেটির ওপরই ওজন বৃদ্ধি নির্ভর করে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


