বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে স্থূলতা, কোলেস্টেরল ও থাইরয়েড সংক্রান্ত সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদ্রোগের পেছনে শুধু জিনগত কারণ নয়—রোজকার জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসই বড় ভূমিকা রাখে।

লন্ডনের হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জেরেমি হৃদরোগের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক অভ্যাসগুলো সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন।
মদ্যপান
ডা. জেরেমির মতে, নিয়মিত মদ্যপানই হৃদ্যন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক অভ্যাস। লাভ-ক্ষতির হিসেব করলে অ্যালকোহল সর্বাধিক ক্ষতির দিকেই ঝোঁকে। অ্যালকোহল শরীরের প্রতিটি কোষের ক্ষতি করে। ধূমপানও একই ভাবে হার্টের মারাত্মক শত্রু।
একাকিত্ব
আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় একাকিত্ব যেন ক্রমশ নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠছে। শুধু বয়স্ক মানুষ নন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও সম্পর্কের টানাপড়েন ও নিঃসঙ্গতার প্রবণতা বাড়ছে। ডা. জেরেমি জানাচ্ছেন, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে— ধূমপান বা স্থূলতা যেমন হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, একাকিত্বজনিত উদ্বেগও তেমনই ক্ষতিকর। নিঃসঙ্গতা থেকে অবসাদ ও মানসিক চাপ তৈরি হয়, যা সরাসরি হার্টের ওপর প্রভাব ফেলে।
প্রক্রিয়াজাত মাংস
প্যাকেটজাত ও হিমায়িত মাংসের ব্যবহার দিনে দিনে বাড়ছে। রান্না করা সহজ, স্বাদও আকর্ষণীয়—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে। কিন্তু ডা. জেরেমির মতে, এই ধরনের খাবার হার্টের জন্য ক্ষতিকর। তার পরামর্শ, প্রক্রিয়াজাত মাংস এড়িয়ে টাটকা, চর্বিহীন মাংস, যেমন মুরগির মাংস—খাওয়াই ভালো।
প্লাস্টিকের ব্যবহার
প্লাস্টিকের সবজি কাটার বোর্ড, খাবারের বক্স—দৈনন্দিন জীবনে এগুলির ব্যবহার অত্যন্ত সাধারণ। ডা. জেরেমির সতর্কবার্তা, মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবারের সঙ্গে শরীরে ঢুকে হৃদ্যন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। কেননা, প্লাস্টিকের অতিসূক্ষ্ম কণা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, অন্তঃস্রাবী গ্রন্থির কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটায় এবং প্রজনন ক্ষমতার উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
সুতরাং প্রতিদিনের ছোট ছোট ভুল অভ্যাসই ধীরে ধীরে ঝুঁকি বাড়ায়। ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো এড়িয়ে গেলে হার্ট সুস্থ রাখা সহজ হতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।

