রমজান এলেই পুরান ঢাকার চকবাজার জমে ওঠে দেশের অন্যতম বড় ইফতার বাজার হিসেবে। শাহী মসজিদ–এর সামনে রাস্তার দুই পাশে সারি সারি দোকান— সুতির কাবাব, জিলাপি, পরোটা, ছোলা ভুনা, মাটন রোস্ট, পিয়াজু, ডিম চপ, সবজি পাকোড়া, দই বড়া থেকে শুরু করে পিজ্জা ও বার্গার পর্যন্ত। রঙিন, সুগন্ধি আর মুখরোচক এসব খাবার সহজেই রোজাদারদের আকৃষ্ট করে।

তবে পুষ্টিবিদদের সতর্কবার্তা—এই খাবারের বড় অংশই উচ্চমাত্রার চর্বিযুক্ত এবং অতিরিক্ত খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা–এর তথ্য অনুযায়ী, খাদ্যাভ্যাসে অসচেতনতা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে অতিরিক্ত শর্করা ও ডিপ-ফ্রাই খাবার শরীরে অস্বাস্থ্যকর চর্বি জমার অন্যতম কারণ।
বিশেষজ্ঞরা জানান, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাট হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
স্যাচুরেটেড ফ্যাট পাওয়া যায় লাল মাংস, দুগ্ধজাত খাবার, নারকেল তেল ও পাম অয়েলে।
ট্রান্স ফ্যাট বেশি থাকে বিস্কুট, কেক, পেস্ট্রি, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, মার্জারিন এবং রাস্তার ভাজা খাবারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, দৈনিক মোট শক্তি গ্রহণের ৩০ শতাংশের কম—অর্থাৎ প্রায় ৬৫ থেকে ৮০ গ্রাম ফ্যাট গ্রহণ করা উচিত। এর মধ্যে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ২০ থেকে ২৫ গ্রামের মধ্যে এবং ট্রান্স ফ্যাট ২ গ্রামের নিচে রাখা প্রয়োজন।
কীভাবে সচেতন থাকবেন?
-ভাজা পিয়াজু, বেগুনি, জিলাপি ও শিঙ্গাড়া কম খান
-বিস্কুট, পেস্ট্রি ও ডোনাটের মতো প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত রাখুন
-বনস্পতি ঘি ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
-মাছ ও চর্বিহীন মাংস বেছে নিন
-ডিপ-ফ্রাইয়ের বদলে গ্রিল বা বেক করে রান্না করুন
-তরকারিতে তেলের পরিমাণ কমান
বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজানে সংযম শুধু ইবাদতেই নয়, খাদ্যাভ্যাসেও জরুরি। সচেতনভাবে খাবার নির্বাচন করলে ইফতারের স্বাদ যেমন উপভোগ করা যাবে, তেমনি সুস্থ থাকাও সম্ভব হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


