সময় বড় অদ্ভুত! আজ যাকে যেভাবে চিনেছি, তাকেই যে আগামীতে অন্য পরিচয়ে সম্বোধন করতে হবে না, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। সময় ক্ষণে ক্ষণে বদলে দিতে পারে পরিচয়। চেনাতে পারে ভিন্ন রূপে। যেমনটা ঘটেছে জেফার রহমানের বেলায়। একসময় তিনি ছিলেন অগণিত শ্রোতার প্রিয় কণ্ঠশিল্পী। সুরকার হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছিলেন। সেই জেফার এখন অগণিত দর্শকমনে জায়গা করে নিয়েছেন প্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে। না, কণ্ঠশিল্পী পরিচয় জলাঞ্জলি দিয়ে অভিনয়ে আসেননি; বরং পুরোনো পরিচয় ধরে রেখেই অভিনয় করে যাচ্ছেন। এ কথা সত্যি যে, অভিনেত্রী হিসেবে সমসাময়িক তারকাদের চেয়ে তাঁর কাজের সংখ্যা কম। কিন্তু যে কটি কাজ তিনি করেছেন, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিস্তর।

পরিণত শিল্পী হয়ে উঠার তৃষ্ণাও জেফারের আছে, তার প্রমাণ মেলে পর্দায় চরিত্রের উপস্থাপনা দেখে। এই যেমন এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে তাঁর সুবাহ চরিত্রটির কথা। যেটি জেফার তুলে ধরেছেন শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘তুমি আমি শুধু’ নামের ওয়েব সিনেমায়। সুবাহ সেই মানুষগুলোর একজন, যাদের আচরণ অনেকের চেয়ে সংযত। যে কোনো কিছু করার আগে তা নিয়ে ভাবতে বসে, সেটি তাঁর জন্য কতটা যৌক্তিক। তাই সম্পর্কের আগে প্রশ্ন করতে ভালোবাসে।
সুবাহ নামের এমনই এক চরিত্রে সাবলীল অভিনয় দিয়ে অল্প সময়ে দর্শক হৃদয় জয় করে নিয়েছেন জেফার। তাই ‘তুমি আমি শুধু’ দেখতে বসলে মনে হয় না, এর আগে এই অভিনেত্রী মাত্র একটি সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে কাজ করেছেন। তাই অভিনয়ের জন্য দর্শক প্রশংসা জেফারের পাওনা ছিল– এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
‘তুমি আমি শুধু’ ওয়েব সিনেমা নিয়ে জেফার রহমান যখন আলোচনায়, তখন যে প্রশ্ন সামনে উঠে আসে, তা হলো– অভিনয় কী শুধু শখের বসে করে যাবেন, নাকি এ বিষয়টি নিয়ে আলাদা করে ভাবছেন? এর উত্তরে জেফার বলেন, নন্দিত নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘লাস্ট ডিফেন্ডার অব মনোগামী’ সিনেমা দিয়ে অভিষেকের পরও এই প্রশ্নে উত্তর দেওয়া কঠিন ছিল। কিন্তু একটা সময় উপলব্ধি হলো, অবচেতন মনে এই চাওয়াই ছিল যে, চাওয়া পর্দায় নানারূপে নানা চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরি।
প্রথম সিনেমাতে দর্শকের কাছে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর অন্যরকম এক ভালো লাগায় মন ভরে গেছে। একই সঙ্গে বেড়ে গেছে অভিনয়ের ক্ষুধা। যাদের জীবন কাছ থেকে দেখা হয়নি, মনের গহিনের মানুষটি কেমন জানার সুযোগ পাইনি, তেমনই কিছু চরিত্রের সঙ্গে মিশে গিয়ে জীবনভ্রমণের ইচ্ছা বেড়েই চলেছে; যা শুধু অভিনয়ের মধ্য দিয়েই সম্ভব। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, নিয়মিত না হলেও যখনই ভালো ও ব্যতিক্রমী গল্প, চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাব, দাঁড়িয়ে যাব ক্যামেরার সামনে।’
জেফারের এ কথা থেকে বোঝা যায়, শখের বসে অভিনয় শুরু করলেও এ নিয়ে আলাদাভাবে ভাবতে শুরু করেছেন তিনি। সংখ্যা বাড়ানোর জন্য নয়, শিল্পীসত্তার তৃষ্ণা মেটাতেই ভালো গল্প ও চরিত্র পর্দায় তুলে ধরতে চান। এখন কথা হলো, অভিনয়ের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে, কণ্ঠশিল্পী পরিচয় কি আড়ালে চলে যাবে? ‘একদমই না, আমি এমন কিছু একেবারেই ভাবি না’ সোজাসাপ্টা উত্তর জেফারের। তিনি আরও বলেন, যে গানের সূত্র ধরে অভিনেত্রী পরিচয় তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া, সেই গান থেকে দূরে সরে থাকা অসম্ভব। তাই গান আর অভিনয় একসঙ্গে চালিয়ে যেতে চাই। কারণ এ দুটো বিষয় শুধু ভালো লাগা নয়, নেশায় পরিণত হয়েছে। অভিনয় আর গান এ দুইয়ে মিলেই রচনা করতে চাই নানা রঙের দিনগুলোর গল্প।
অভিনয় আর গান– এই দুটোই যেন জেফার ক্যারিয়ারের সঙ্গে এক সুতোয় গাঁথা। সে কারণে অভিনেত্রীর পাশাপাশি প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবেও বারবার তাঁকে আবিষ্কার করেছি আমরা। ওয়েব সিনেমা ‘লাস্ট ডিফেন্ডার অব মনোগামী’ ও সিরিজ ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন-২’-এ দুই পরিচয়ে আবির্ভাব ঘটেছিল তাঁর। এই দুই সিনেমা ও সিরিজে শুধু অভিনয়ই নয়, দর্শক-শ্রোতার হৃদয় জয় করেছেন প্লেব্যাক করেও। তাঁর গাওয়া ফোক ফিউশন ‘সুন্দরী কমলা’ এবং ভিন্ন আঙ্গিকের গান ‘বৈয়াম পাখি ২.০’ অনুরাগীদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে। একইভাবে ‘তুমি আমি শুধু’ ওয়েব সিনেমাতেও জেফারকে অভিনেত্রীর পাশাপাশি প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবেও পেয়েছি আমরা। সিনেমায় তাঁর গাওয়া ‘তোর ছায়া’ গানটিও দারুণ সাড়া ফেলেছে সংগীতপ্রেমীদের মাঝে। এরই মধ্যে প্রায় বিশ লাখ শ্রোতা গানটি শুনে ফেলেছেন। অবাক করা বিষয় হলো, শুধু প্লেব্যাক নয়, গীতিকার বাঁধনের সঙ্গে যৌথভাবে ‘তোর ছায়া’ গানের কথাও লিখেছেন নন্দিত এই শিল্পী। এই সঙ্গে কাঁধে তুলে নিয়েছেন গানের কম্পোজিশনের দায়িত্ব। একসঙ্গে এত কিছু করতে পারার সাহস দেখানোর জন্যও সাধুবাদ জানাতে হয় তাঁকে। কারণ প্লেব্যাক সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। আর সেই চ্যালেঞ্জ নিতে কখনও ভীত মনে হয়নি এই তারকা কণ্ঠশিল্পীকে। অতীতেও তাঁর প্রমাণ মিলেছে। যার সুবাদে অভিনব আয়োজন আর ভিন্ন ধাঁচের পরিবেশনা দিয়ে বাংলা গানের শ্রোতা হৃদয় জয় করতেও সময় লাগেনি তাঁর।
কারণ একটাই, গানের পসরা তিনি সাজিয়ে চলেছেন মেলো-রোমান্টিক থেকে শুরু করে পপ-রক, টেকনো, ফোক ফিউশনসহ নানা ধরনের গানে। যার সুবাদে জেফারকে দর্শক-শ্রোতা প্রতিবারই নতুনভাবে আবিষ্কারের সুযোগ পেয়েছেন। ‘ঝুমকা’, ‘তীর’, ‘আড়ালে হারালে’ থেকে শুরু করে ‘তাণ্ডব’ সিনেমায় প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে গাওয়া ‘লিচুর বাগানে’, ‘দাগি’র ‘নিয়ে যাবে কি’, ‘ইনসাফ’র ‘ধামাকা’, ‘ন ডরাই’র ‘হারবো না’সহ অন্যান্য গানগুলো এখনও অনুরণন তুলে যাচ্ছে শ্রোতা মনে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
গানে গানে যেমন সংগীতপ্রেমীদের মনে ছাপ ফেলেছেন, তেমনি সেরা শিল্পী হিসেবে পুরস্কৃত হওয়ার মধ্য দিয়ে পেয়েছেন কাজের স্বীকৃতি। যে কারণে দিনের পর দিন জেফারের কাছে দর্শক-শ্রোতার কাছে প্রত্যাশাও বেড়ে চলেছে। আর সেই প্রত্যাশা পূরণে এতটুকু কার্পণ্য করবেন না বলেই জানিয়েছেন নন্দিত এই কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেত্রী।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


