ঘুমের মধ্যে দেখা স্বপ্ন যদি নিজের ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করা যেত, বিষয়টি কেমন হতো? দুঃস্বপ্ন শুরু হলেই তা মুছে গিয়ে তার জায়গায় সুখকর কোনো দৃশ্য ভেসে উঠছে—শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে এমন ধারণা এখন আর পুরোপুরি কল্পনা নয়।

প্রোপেটিক এআই নামের একটি স্টার্টআপ দাবি করেছে, তারা এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছে যা মানুষের স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যেমন দ্রুত বাড়ছে, তেমনি এর প্রয়োগক্ষেত্রও দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে। দৈনন্দিন কাজ সহজ করা থেকে শুরু করে সৃজনশীল ক্ষেত্র—সব জায়গাতেই এখন এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার মানুষের স্বপ্নের জগতেও প্রযুক্তির প্রবেশ ঘটতে চলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সংস্থাটির মতে, তারা দুটি বিশেষ পরিধানযোগ্য ডিভাইস তৈরি করেছে—ডুয়াল এবং পেস। এই ডিভাইসগুলো ব্যবহারকারীর ঘুমের অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং স্বপ্ন দেখার ধরন পরিবর্তন করতে সক্ষম।
ডিভাইসটি দেখতে হেডব্যান্ডের মতো, যা ঘুমানোর সময় মাথায় পরতে হয়। এতে থাকা প্রযুক্তি ঘুমের সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে এবং সেই অনুযায়ী স্বপ্নের ওপর প্রভাব ফেলে। নির্মাতাদের দাবি, দুটি মডেলের ডিজাইন প্রায় একই রকম।
এই ডিভাইসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি লুসিড ড্রিম বা সচেতন স্বপ্ন তৈরিতে সহায়তা করে। অর্থাৎ, ব্যবহারকারী ঘুমের মধ্যেই বুঝতে পারবেন যে তিনি স্বপ্ন দেখছেন এবং কিছুটা হলেও সেই স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
দামের দিক থেকেও প্রযুক্তিটি বেশ ব্যয়বহুল। ডুয়াল মডেলের মূল্য প্রায় ৪৪৯ ডলার, আর পেস মডেলের দাম প্রায় ১২৯৯ ডলার।
সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রযুক্তিটি নিয়ে আরও গবেষণা চলছে। ডুয়াল মডেলটি শিগগিরই বাজারে আসতে পারে, আর উন্নত সংস্করণ পেস বাজারে আসতে আরও সময় লাগবে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ এখনই এর কার্যকারিতা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন।
প্রযুক্তিটির কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে জানা যায়, এতে ট্রান্সক্রেনিয়াল ফোকাসড আল্ট্রাসাউন্ড এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স অংশকে উদ্দীপিত করে। সাধারণত ঘুমের সময় এই অংশ কম সক্রিয় থাকে, কিন্তু ডিভাইসটি সেখানে সংকেত পাঠিয়ে সেটিকে সক্রিয় করে তোলে। ফলে ফ্রন্টোপ্যারিয়েটাল নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়, যা সচেতন চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর ফলে ব্যবহারকারী ঘুমের মধ্যেও স্বপ্ন সম্পর্কে সচেতন থাকতে পারেন।
এছাড়া ডিভাইসটিতে ইইজি সেন্সর রয়েছে, যা ঘুমের সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে। এতে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও নির্ভুলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


