সাইফুল ইসলাম : রমজান মাস সংযম, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এ মাসে সমাজের বিত্তবান মানুষের উচিত অসহায় ও দুস্থদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা। তবে বাস্তবতায় দেখা যায়, অনেক জায়গায় জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার পার্টির আয়োজন করা হলেও সেখানে প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র মানুষের উপস্থিতি খুবই কম। এসব আয়োজনে সাধারণত আমন্ত্রিত থাকেন ভিআইপি ব্যক্তি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, বিত্তশালী ও সাংবাদিকরা।

Iftar
প্রতীকী ছবি
Advertisement

সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতাদের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলগুলোতে দেখা যায় বিশাল আয়োজন, বাহারি খাবারের সমাহার এবং ছবি তোলার ব্যস্ততা। পরে সেই আয়োজনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়। তবে এসব আয়োজনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের উপস্থিতি খুব একটা চোখে পড়ে না। এ কারণে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—রমজানের ইফতার আয়োজন কি শুধুই সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য, নাকি মানবিক দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে?

তবে এর মধ্যেও কিছু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখা যায়। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ছিন্নমূল মানুষের জন্য ইফতার বিতরণের উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি কিছু ব্যক্তি এতিমখানা ও অসহায় মানুষের সঙ্গে ইফতার আয়োজন করে থাকেন। যদিও এ ধরনের উদ্যোগের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।

ইসলাম বিষয়ক গবেষক ও আলেমদের মতে, রমজানের মূল শিক্ষা হলো আত্মসংযমের পাশাপাশি মানবসেবার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। তাই জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার পার্টির পরিবর্তে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের আমন্ত্রণ জানানো বা তাদের মাঝে ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা অধিক তাৎপর্যপূর্ণ।

তাদের মতে, ভিআইপি-কেন্দ্রিক ইফতার আয়োজনের বদলে দরিদ্র, শ্রমজীবী ও পথশিশুদের সঙ্গে ইফতার ভাগাভাগি করা হলে রমজানের প্রকৃত চেতনা বাস্তবায়ন হবে। এ ক্ষেত্রে সমাজের বিত্তবান ও প্রভাবশালীদের আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google