​জাহিদ ইকবাল : ​মানুষের তৈরি সীমান্ত যখন মানুষেরই বুকের পাঁজরের ওপর বিষাক্ত ফণা তোলে, তখন সভ্যতার চকচকে মুখোশটা খসে পড়ে বীভৎস এক কঙ্কাল বেরিয়ে আসে। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে তো আমরা আগেই হৃদয়ে ক্ষতবিক্ষত দাগ কেটেছি, কিন্তু এখন সেই সীমান্তে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে যদি প্রকৃতিকে খুনি হিসেবে ব্যবহার করার নীল নকশা করা হয়—তবে তা কেবল অমানবিক নয়, বরং এক ভয়াবহ নৈতিক দেউলিয়াত্বের চরম বহিঃপ্রকাশ। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর নির্দেশনায় বাংলাদেশ সীমান্তের নদী ও জলাভূমিতে বিষধর সাপ ও হিংস্র কুমির ব্যবহারের যে পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে, তা কেবল কোনো সামরিক কৌশল নয়—এটি সরাসরি মানবতা, প্রতিবেশীসুলভ মমতা এবং আন্তর্জাতিক শিষ্টাচারের ওপর এক নির্দয় আঘাত। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে যখন বিশ্বজুড়ে মানুষের অধিকার নিয়ে বড় বড় সেমিনার হচ্ছে, তখন এই বর্বরোচিত প্রস্তাব আমাদের মনে করিয়ে দেয় মধ্যযুগীয় সেই অন্ধকার সময়কে, যেখানে ক্ষমতার দম্ভে মানুষের প্রাণকে স্রেফ সংখ্যা হিসেবে গণ্য করা হতো। ভারত নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে জাহির করে, কিন্তু তাদের এই ‘সাপ-কুমির’ পরিকল্পনা সেই গণতন্ত্রের সংজ্ঞাকেই আজ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। প্রতিবেশী মানে তো বিপদে বুক দিয়ে আগলে রাখা, কিন্তু ভারত যেন আমাদের জন্য এমন এক মৃত্যুপুরী সাজাতে চাইছে যেখানে পা বাড়ানো মানেই অবধারিত মৃত্যু।

বর্ডার

Advertisement

​স্রষ্টা তাঁর অসীম মমতায় পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, “আমি বনী আদমকে (মানুষকে) সম্মানিত করেছি” (সূরা বনী ইসরাঈল: ৭০)। মানুষ তো মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ কারুকার্য—আশরাফুল মাখলুকাত। আল্লাহ পাক মানুষ সৃষ্টি করে তাকে পৃথিবীর প্রতিনিধি বা খলিফা হিসেবে পাঠিয়েছেন। কোনো কৃত্রিম মানচিত্র কিংবা রাজনৈতিক জিঘাংসা মানুষের এই সহজাত সম্মান আর বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারকে কেড়ে নিতে পারে না। অথচ ভারতের এই পরিকল্পনায় ফুটে উঠছে মানুষের প্রতি এক চরম তুচ্ছতাচ্ছিল্য। ভাবলে গা শিউরে ওঠে—একজন মানুষ, যে হয়তো কেবল সামান্য জীবিকার তাগিদে কিংবা পথ ভুলে সেই অদৃশ্য রেখাটি স্পর্শ করেছে, তাকে কি সাপের মরণকামড় কিংবা কুমিরের তীক্ষ্ণ দাঁতে ছিন্নভিন্ন হওয়ার জন্য উৎসর্গ করা যায়? স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকে এভাবে বন্য পশুর শিকারে পরিণত করার পরিকল্পনা কেবল ইসলাম নয়, কোনো ধর্মই সমর্থন করে না। এটি স্রষ্টার সৃষ্টিতত্ত্বের ওপর এক চরম ধৃষ্টতা।

​এই পরিকল্পনার ভয়াবহতা বুঝতে হলে আমাদের তাকাতে হবে বৈশ্বিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনার দিকে। আমেরিকা ও মেক্সিকোর মধ্যে বিশাল সীমান্ত রয়েছে, যেখানে প্রায়ই হাজার হাজার মানুষ অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। সেখানে দেয়াল তোলা নিয়ে রাজনীতি হয়, বিতর্ক হয়, কিন্তু কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা মন্ত্রী কখনো বলেননি যে রিও গ্র্যান্ডে নদীতে ক্ষুধার্ত কুমির ছেড়ে দেওয়া হোক। এমনকি ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সীমান্তেও, যেখানে সংঘাতের মাত্রা চরম, সেখানেও প্রাণীকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের এমন কুৎসিত প্রস্তাব আধুনিক ইতিহাসে বিরল। ইউরোপের শেনজেন এলাকায় মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে অবলীলায় যাতায়াত করে। আর ভারত আজ ডিজিটাল ইন্ডিয়ার স্বপ্ন দেখছে, চন্দ্রযান পাঠাচ্ছে চাঁদে, অথচ তাদের সীমান্ত চিন্তা পড়ে আছে প্রস্তর যুগে। এটি কি কেবল নিরাপত্তা রক্ষা, নাকি প্রতিবেশীকে হীন প্রতিপন্ন করার এক বিকৃত মানসিকতা?

​বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার এখনও উন্মুক্ত এবং ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ও জলাভূমি। এই বিশাল অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব বিএসএফ-এর। কিন্তু আমরা বিগত বছরগুলোতে কী দেখেছি? সীমান্তে ফেলানীর নিথর দেহ কাঁটাতারে ঝুলে ছিল দীর্ঘ সময়, যা সারা বিশ্বের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। আমরা দেখেছি কীভাবে সীমান্তে গরু পারাপারের নামে নিরপরাধ মানুষকে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গত দুই দশকে সীমান্তে সহস্রাধিক বাংলাদেশি বিএসএফ-এর হাতে প্রাণ হারিয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কেবল ২০২৩ সালেই অন্তত ৩১ জন বাংলাদেশি সীমান্তে প্রাণ হারিয়েছেন, যার অধিকাংশ ছিল বিনা উসকানিতে চালানো হামলা। এখন হয়তো বন্দুকের গুলির খরচ বাঁচাতে বা আন্তর্জাতিক সমালোচনা এড়াতে তারা প্রকৃতির ওপর এই হত্যার দায় চাপাতে চাইছে। সাপ কামড়ালে বা কুমিরে খেলে তো বিএসএফের ওপর সরাসরি গুলির দোষ আসবে না—এই কি তাদের আসল উদ্দেশ্য? এটি কি কেবল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, নাকি ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের এক নতুন মোড়ক?

​সীমান্তের এই ‘বিষাক্ত প্রতিরোধ’ কেবল তথাকথিত অনুপ্রবেশকারী নয়, বরং আক্রান্ত করবে সীমান্তের পাড়ে বাস করা হাজারো নিরীহ প্রান্তিক মানুষকে। বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষে নদীগুলোতে যে জেলেরা শত বছর ধরে মাছ ধরে জীবন চালায়, তাদের কী হবে? যে শিশুটি তপ্ত দুপুরে টলটলে জলে ডুব দিয়ে শৈশব খুঁজে পায়, তার নিরাপত্তার গ্যারান্টি কোথায়? কিংবা যে তৃষ্ণার্ত গবাদি পশুকে কৃষকটি জল খাওয়াতে নিয়ে যায়—তাদের জন্য এই নদীগুলো আজ সাক্ষাৎ যমদূত। সাপ বা কুমির তো কোনো দেশের পাসপোর্ট চেনে না, চেনে না কোনো মানচিত্রের রং। তারা চেনে শুধু রক্ত আর উষ্ণ মাংস। এমন এক ব্যবস্থা কোনোভাবেই রাষ্ট্রিক নিরাপত্তা হতে পারে না, এটি কেবল এক পৈশাচিক মরণফাঁদ। এটি আন্তর্জাতিক নদী আইনেরও চরম লঙ্ঘন, কারণ যৌথ নদীগুলোতে এমন হিংস্র জলজ প্রাণী অবমুক্ত করা নদীর প্রাকৃতিক গতি ও মানুষের অধিকারকে খর্ব করে।
​অধিকন্তু, এই পরিকল্পনা কেবল মানবিক নয়, ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়েরও কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কৃত্রিমভাবে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জলাভূমিতে বিপুল পরিমাণ বিষধর সাপ ও কুমির ছেড়ে দিলে সেই অঞ্চলের বাস্তুসংস্থান বা ইকোসিস্টেম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। স্থানীয় জলজ প্রাণীকুল বিলুপ্তির মুখে পড়বে এবং প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খলে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। প্রকৃতি যখন মানুষের প্রতিহিংসার হাতিয়ার হয়, তখন প্রকৃতি নিজেই প্রতিশোধ নিতে শুরু করে। এই সাপ ও কুমিরগুলো যে কেবল বাংলাদেশের দিকেই থাকবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। জোয়ার-ভাটার টানে কিংবা খাবারের সন্ধানে তারা ভারতীয় জনপদেও হানা দেবে। ফলে নিজেদের পাতা ফাঁদে একদিন ভারতকেও রক্তাক্ত হতে হবে। একটি সভ্য রাষ্ট্র কীভাবে এমন অবিবেচক এবং অবৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবতে পারে, তা সত্যিই বিস্ময়কর।

​এই নির্দয় পরিকল্পনা আসলে বিএসএফ-এর ব্যর্থতা আর নৈতিক স্খলনকে ঢাকার এক দুর্বল ঢাল। আজ যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), থার্মাল ইমেজিং, ড্রোনের নজরদারি আর ফাইবার অপটিক সেন্সর দিয়ে একটি পিঁপড়াকেও চিনে নেওয়া সম্ভব, সেখানে বিষাক্ত সাপের ওপর নির্ভর করা প্রমাণ করে যে শক্তির দম্ভ যখন মানুষের বিবেককে গ্রাস করে, তখন সে মানুষ আর পশুর মধ্যে কোনো তফাত দেখা না। ভারত যদি সত্যি সীমান্ত নিরাপদ করতে চায়, তবে তাদের উচিত উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সুশৃঙ্খল বাহিনীর মাধ্যমে নজরদারি চালানো। কিন্তু তারা বেছে নিচ্ছে এক অমানবিক পথ, যা সভ্য সমাজের জন্য কলঙ্কজনক। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, কাউকে নিষ্ঠুর বা অমানবিক আচরণের শিকার করা যাবে না। ভারতের এই পরিকল্পনা সরাসরি সেই সনদের লঙ্ঘন।

​বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক তো কেবল কাগজের দলিল নয়, এটি এক ঐতিহাসিক ও আবেগীয় বন্ধন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সেই সহমর্মিতা ও সহযোগিতা আমরা আজও কৃতজ্ঞতার সাথে হৃদয়ে ধারণ করি। কিন্তু আজ যখন সীমান্তে পশুর মতো মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা হয়, তখন সেই সম্পর্কের ভিত কেঁপে ওঠে।
প্রখ্যাত সাংবাদিক নুরুল কবিরের সেই অমোঘ সত্য— “ভারত যাদের প্রতিবেশী, তাদের আর শত্রুর প্রয়োজন হয় না”—আজ যেন এক তপ্ত দীর্ঘশ্বাস হয়ে আমাদের কানে বাজে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের অন্যান্য প্রতিবেশী নেপাল, ভুটান কিংবা মালদ্বীপের সাথেও সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে ভারতের আচরণ প্রায়শই সমালোচিত হয়। আধিপত্যবাদী এই মানসিকতা আঞ্চলিক শান্তি ও সংহতির জন্য বড় অন্তরায়। ভারত যদি নিজেকে এই অঞ্চলের নেতা বা ‘দাদা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তবে তাকে অবশ্যই ক্ষুদ্র প্রতিবেশীদের প্রতি সহমর্মী ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

​ভারতের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় হওয়া প্রয়োজন। এটি কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। জেনেভা কনভেনশন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার চার্টার অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র সীমানা রক্ষার নামে এমন কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারে না যা বেসামরিক নাগরিকদের জন্য নির্বিচার মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করে। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এখনই বিশ্বমহলে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে এই বর্ববতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাতে হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা জরুরি, কিন্তু তা কখনোই মানুষের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে হতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রশ্ন তোলা দরকার—ভারত কি তবে মানুষের প্রাণের চেয়ে তার কাঁটাতারকে বেশি মূল্য দেয়?

​মানবতা, নৈতিকতা আর স্রষ্টার সৃষ্টির প্রতি মমতা—এই হলো আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। ক্ষমতার মোহে যদি সেই ভিত্তিকেই ধ্বংস করা হয়, তবে তা কোনো রাষ্ট্রের জন্যই গৌরব বয়ে আনে না। ভারত যখন নিজেকে ‘বিশ্বগুরু’ দাবি করে, তখন তাদের এই হৃদয়হীন আচরণ কেবল তাদের বৈশ্বিক ভাবমূর্তিকেই ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মনে বপন করছে দীর্ঘমেয়াদী ঘৃণা ও অবিশ্বাসের বিষবীজ। আমরা চাই বন্ধুত্ব, আমরা চাই ব্যবসা ও সংস্কৃতির বিনিময়; আমরা চাই না কোনো বিষাক্ত ফণা কিংবা রক্তমাখা দাঁত। মানুষের রক্ত নদী দিয়ে বয়ে যাবে—এমন দৃশ্য সহ্য করার শক্তি কোনো বিবেকবান মানুষের নেই। আপনি নদীকে বিষাক্ত করতে পারেন, কিন্তু সেই বিষের ছোঁয়া থেকে নিজের তীর রক্ষা করতে পারবেন না। এই সাপ আর কুমির একদিন হয়তো তাদেরই বুমেরাং হয়ে দাঁড়াবে। কারণ প্রকৃতি এবং স্রষ্টা কেউই জুলুম সহ্য করেন না।

​প্রতিবেশী হিসেবে আমরা ভারতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু সেই শ্রদ্ধা কি একপাক্ষিক হবে? ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের বুঝতে হবে যে, উগ্র জাতীয়তাবাদের বিষ যখন সীমান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তখন তার ক্ষত শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রয়ে যায়। ফেলানীর ঝুলে থাকা নিথর দেহটি যেমন আজও আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়, তেমনি সীমান্তের জলাভূমিতে মানুষের রক্ত মিশে থাকলে তা কখনো ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সুফল বয়ে আনবে না। আমরা কি এমন এক দক্ষিণ এশিয়া চাই যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলো একে অপরকে হিংস্র পশু দিয়ে ভয় দেখাবে? নাকি এমন এক অঞ্চল চাই যেখানে সহযোগিতা আর ভালোবাসার সীমান্ত থাকবে?

​পরিশেষে বলতে চাই, ঘৃণা দিয়ে নয়, মমতা আর সংলাপ দিয়েই প্রকৃত সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সীমান্তের দুই পাশেই একই লাল রক্ত বয়ে চলা মানুষ বাস করে। তাদের দুঃখ, অভাব আর ভালোবাসা একই রকম। আর মানুষই এই ধরণীর সবচেয়ে বড় সত্য।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

আসুন, আমরা এমন এক সীমান্তের স্বপ্ন দেখি যেখানে সাপ বা কুমিরের হিংস্রতা নয়, বরং দুই দেশের মানুষের ভ্রাতৃত্বের হাতছানি থাকবে। স্রষ্টার সৃষ্টিকে যারা তুচ্ছ করে, মহাকাল তাদের কখনোই বীর হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। ইতিহাস কেবল তাদেরই মনে রাখে যারা মানবতার জন্য কাজ করে। জয় হোক মানবতার, বিনাশ হোক সকল বর্বরতার। মানুষ মানুষের জন্য—এই পরম সত্যটিই হোক আমাদের আগামী দিনের পাথেয়। আমরা চাই কাঁটাতারের বদলে হৃদয়ের বন্ধন, গুলির বদলে সহমর্মিতার বার্তা। কারণ দিনশেষে মানুষই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুন্দর ও শক্তিশালী সত্য। সীমান্তের ওপার থেকেও যখন মানবতার কণ্ঠস্বর শোনা যাবে, তখনই কেবল আমাদের সভ্যতা সার্থক হবে। তার আগে পর্যন্ত সাপ-কুমিরের এই বিভৎস রাজনীতি আমাদের সভ্যতার মুখে এক কলঙ্কজনক তিলক হয়েই থাকবে।

​লেখক পরিচিতি: সিনিয়র সাংবাদিক ও সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.