বৈধ পন্যকে অবৈধ সাজিয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজার সদর থানা পুলিশের কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সড়কে জরুরি সার্ভিসের গাড়ী আটকিয়ে প্রথমে গ্রাহকদের সঙ্গে দফারফা করার চেষ্টা করে মৌলভীবাজার থানার এএসআই সোহাগ মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। ব্যর্থ হয়ে গ্রাহকের বৈধ পার্সেলকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে আত্মসাতের উদ্দেশে গাড়ীসহ থানায় নিয়ে যায়। গাড়িতে থাকা বুকিং মেমো থেকে পণ্যের প্রাপক-প্রেরকের ফোন নাম্বর সংগ্রহ করে হুমকি ধামকি দিয়ে ৩ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের চেষ্টা। একপর্যায়ে প্রতিবাদের মুখে অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে ৩দিন গাড়ী-পার্সেল আটকিয়ে রেখে মামলা দিয়ে হয়রানির করে তারা। গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত টানা তিন দিন ধরে মৌলভীবাজার মডেল থানার ভেতরে চাঞ্চল্যকর এই অনৈতিক ঘটনাটি ঘটেছে দেশের শীর্ষ স্থানীয় কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান এসএ পরিবহনের সাথে। মৌলভীবাজার থানার কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। গত মাসেও এসএ পরিবহনের একটি গাড়ি আটকে একইভাবে গ্রাহকের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিলেন এএসআই সোহাগ সিন্ডিকেট। মুলত এরপর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি।

SA

Advertisement

প্রতিদিনের মতো গ্রাহকদের বুকিং করা জরুরী ডাক ডকুমেন্ট প্যাকেট পার্শ্বেল নিয়ে এসএ পরিবহনের একটি কাভার্ডভ্যান সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে। দিবাগত রাত ৩ টার দিকে গাড়িটি মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের সামনে এলে, মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার এএসআই সোহাগ মিয়ার নেতৃত্বে গাড়িটির গতিরোধ করে থানার কতিপয় পুলিশ সদস্য।

গাড়িতে অবৈধ পন্য আছে দাবি করে গাড়িটির ড্রাইভার হেলপারের ওপর চড়াও হয় পুলিশ।

গাড়িতে থাকা বিভিন্ন পার্শ্বেলের বৈধ চালান ও ডকুমেন্ট তাদের দেখানোর চেষ্টা করলে সোহাগ সিন্ডিকেট তা আমলে নেয়নি। উল্টো বুকিং মেমো নিয়ে সেখান থেকে গ্রাহকের ফোন নাম্বার নিয়ে ৩ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করে। গ্রাহকরা তাদের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হলে অস্ত্রের মুখে ড্রাইভার হেলপারকে জিম্মি করে গাড়িটি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

সেখানে তল্লাশীর নামে গাড়িতে থাকা গ্রাহকের বিভিন্ন ধরনের মালামাল কেটে ছিঁড়ে তছনছ করে। এসময় এসএ পরিবহনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানালে, শুরু হয় নানা নাটকীয়তা।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গাড়িটি আটক করলেও ৩ দিন ধরে চলে সমঝোতার মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের অপচেষ্টা। দীর্ঘ সময় আটক রাখা হয় ড্রাইভার ও হেলপারকে। চাঁদাবাজিতে ব্যর্থ হয়ে বৈধ পণ্যকে অবৈধ উল্লেখ করে কোন প্রকার সিজার লিস্ট ছাড়াই শুরু হয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ সিজারলিস্ট ছাড়া বিপুল পরিমাণ পন্য নামিয়ে নেয়া হলেও মামলায় উদ্ধার দেখানো হয় অল্প পরিমান পণ্য। বাকি মালামাল পুলিশ হেফাজতেই আত্মসাতের মতো ঘটনা ঘটেছে।

সিনিয়র আইনজীবীরা জানান, সিজারলিস্ট ছাড়া পন্য আটক কিংবা আটকের পর ২৪ ঘন্টার বেশি কোন পন্য নিজেদের জিম্মায় রাখার কোন অধিকার নেই পুলিশের। ৩ দিন আটকে রেখে মোবাইলে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে বলে দাবি তার।

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই সোহাগের পক্ষেই সাফাই গাইলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও।

এর আগে গত ২৯শে এপ্রিলও এসএ পরিবহনের আরেকটি ডাকবাহী কাভার্ডভ্যান আটকে বিপুল পরিমান পণ্য ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে এএসআই সোহাগ মিয়া। সে সময় গ্রাহককে ভয় ভীতি দেখিয়ে দেড় লাখ টাকা নিয়ে পণ্য ছেড়ে দেয় সোহাগ।

ঘটনার সত্যতা জানতে মৌলভীবাজার সদর থানায় যায় এসএটিভি। উপস্থিতি টের পেয়ে থানা থেকে বের হয়ে যান এএসআই সোহাগ। ফোনে যোগাযোগ করা হলে অপকর্ম শিকার করেন তিনি, কিন্তু থানায় আসতে বললে শুরু করেন টালবাহানা।

দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর সোহাগের নাগাল পায় এসএ টিভি। কিন্তু প্রশ্ন শুনেই তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন তিনি। এসএ পরিবহনের জরুরি সেবা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন।

এসময় দেড় লাখ টাকা চাঁদার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তড়িঘড়ি করে থানা ত্যাগ করেন এএসআই সোহাগ।

স্থানীয়রা জানায়, এএসআই সোহাগের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি ও হয়রানি মৌলভীবাজারে নিত্য দিনের ঘটনা। প্রতি রাতেই কোন না কোন স্থানে তল্লাশির নামে অনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকে এএসআই সোহাগ ও সহযোগিরা।

মৌলভীবাজার সদর থানায় বদলি হওয়ার আগেও বেপোরোয়া ছিলেন এএসআই সোহাগ। এমন অভিযোগও আছে উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে।

এই ঘটনা সহ পুরনো অভিযোগগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়েরের।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

মহাসড়কে অভিযানের নামে বৈধ পণ্যকে অবৈধ উল্লেখ করে আত্মসাৎ ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত এএসআই সোহাগ মিয়াসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে এসএ পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ গ্রাহকরা।

সূত্র ও ছবি : এসএ টিভি

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.