আষাঢ়ের তপ্ত রোদ আর অসহনীয় ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত। বাইরে বের হওয়া যেমন কষ্টকর হয়ে উঠেছে, তেমনি ঘরের ভেতরেও মিলছে না স্বস্তি। এই পরিস্থিতিতে সুস্থ মানুষেরও নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। তবে যাদের দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এ সময়টি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত গরম ও বাতাসের আর্দ্রতা শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে অনেক দীর্ঘস্থায়ী রোগের উপসর্গ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা অঙ্গ বিকলের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমের সময় শরীরকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখতে হৃদ্যন্ত্র, কিডনি ও ফুসফুসকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। ফলে আগে থেকেই অসুস্থ ব্যক্তিদের শরীরে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
হৃদ্রোগীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি
অতিরিক্ত গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে হৃদ্যন্ত্রকে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত রক্ত সঞ্চালন করতে হয়। যাদের হৃদ্রোগ রয়েছে বা রক্তনালিতে প্রতিবন্ধকতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই বাড়তি চাপ বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ফলে হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্রের রোগে ব্যবহৃত কিছু ওষুধ শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে তুলতে পারে।
কিডনির রোগ ও পাথরের সমস্যা
গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে প্রস্রাবে খনিজ পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে। যাদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কিডনির কার্যকারিতা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বাতব্যথা ও গেঁটে বাতের কষ্ট বাড়ে
অনেকের ধারণা, বাতের ব্যথা কেবল শীতকালেই বাড়ে। বাস্তবে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াতেও জোড়ার ব্যথা ও ফোলাভাব বৃদ্ধি পেতে পারে। পানিশূন্যতার কারণে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে গেঁটে বাতের রোগীদের তীব্র ব্যথা দেখা দেয়।
অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টের রোগীরা সতর্ক থাকুন
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া শ্বাসনালিকে সংকুচিত করে ফেলে। এ ছাড়া বাতাসে ধুলাবালি ও দূষণ বেড়ে যাওয়ায় শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে। ফলে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট কিংবা অ্যাজমার আক্রমণ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে
অতিরিক্ত গরমে ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত ওঠানামা করতে পারে। কখনও তা হঠাৎ কমে যায়, আবার কখনও পানিশূন্যতার কারণে বেড়ে যায়। তাই এ সময় নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা জরুরি।
মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়তে পারে
প্রখর রোদ, তীব্র আলো, পানিশূন্যতা এবং ঘুমের ব্যাঘাত মাইগ্রেনের রোগীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে মাথাব্যথার তীব্রতা অনেক বেড়ে যেতে পারে।
মানসিক চাপ ও অবসাদ বৃদ্ধি পায়
গরমের কারণে মানুষের স্বাভাবিক মেজাজেও পরিবর্তন আসে। বিরক্তি, অস্থিরতা এবং উদ্বেগ বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বিষণ্নতা ও মানসিক অবসাদের উপসর্গ আরও প্রকট হয়ে উঠতে পারে।
লুপাস রোগীদের জন্য সূর্যের আলো ক্ষতিকর
লুপাসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সূর্যের আলোতে অত্যন্ত সংবেদনশীল। অল্প সময় রোদে থাকলেও তাদের ত্বকে ফুসকুড়ি, ক্লান্তি ও জোড়ার ব্যথা দেখা দিতে পারে।
স্নায়বিক রোগীদেরও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন
মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও স্নায়ুর কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে দুর্বলতা, অবসাদ এবং হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
যা করবেন
গরমের সময় পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার পান করতে হবে। তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করা জরুরি। বাইরে বের হলে হালকা রঙের সুতি পোশাক পরা ভালো। ছাতা, সানগ্লাস কিংবা টুপি ব্যবহার করলে সূর্যের তাপ থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়।
যারা নিয়মিত বিভিন্ন রোগের ওষুধ সেবন করেন, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা উচিত। বিশেষ করে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
চিকিৎসকদের মতে, সামান্য সচেতনতা এবং নিয়ম মেনে চললেই তীব্র গরমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অনেকাংশে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



