গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবিসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সম্প্রতি জারি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র থেকে বিষয়টি জানা গেছে।

এবার সশস্ত্র বাহিনী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় অন্য বাহিনীর মতো ভূমিকা পালন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি, অন্যান্য আইন এবং In Aid to Civil Power–এর ৭ ও ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী ভোটের দায়িত্ব পালন করবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যাতায়াতসহ মোতায়েন থাকবে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, মোট সাত দিন।
এ ছাড়া মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে প্রতি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন ১৫–১৬ জন। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে থাকবেন ১৭–১৮ জন। মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রতি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন ১৬ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) ভোটকেন্দ্রে থাকবেন ১৭ জন।
দুর্গম ও বিশেষ এলাকায় সাধারণ ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন ১৬–১৭ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে থাকবেন ১৭–১৮ জন।
সশস্ত্র বাহিনী:
(ক) রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।
(খ) সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি জেলা/উপজেলা/মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্ট (Nodal Point) ও অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে টহল ও অন্যান্য আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রয়োজনে নিরাপত্তা সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নির্দিষ্ট কেন্দ্রে স্ট্যাটিকভাবে অথবা দ্বিতীয় পর্বে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েনের অংশ হিসেবে কয়েকটি কেন্দ্রকে গ্রুপ করে মোবাইল টহলের আওতায় মোতায়েন হবে।
(গ) মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সসমূহ প্রয়োজনবোধে ভোটকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে দায়িত্ব পালন করবে;
(ঘ) প্রাপ্যতা সাপেক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর টিমের সঙ্গে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করা হবে এবং আইন, বিধি ও পদ্ধতিগতভাবে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
(ঙ) উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপূর্ণ এলাকা অনুযায়ী কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করবে।
(চ) ঝুঁকি বিবেচনায় রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে আলোচনাক্রমে প্রতিটি জেলায় নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসংখ্যা কম বা বেশি করা যাবে, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দেশক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে;
(ছ) সড়ক ও মহাসড়কে একক অথবা যৌথভাবে নিয়মিত ও অনিয়মিতভাবে (স্ট্যাটিক ও মোবাইল) চেকপোস্ট অপারেশন পরিচালনা করা হবে।
(জ) বিমান বাহিনী প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও বাহিনীসমূহের অনুরোধে উড্ডয়ন সহায়তা দেবে।
(ঝ) সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক ডিপ্লয়মেন্ট প্ল্যান চূড়ান্ত করা হবে এবং
(ঞ) বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের অনুরোধক্রমে চাহিদামতো আইনানুগ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে।
বিজিবি/কোস্ট গার্ড/আর্মড পুলিশ/আনসার ব্যাটালিয়ন:
(ক) বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আর্মড পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে;
(খ) জেলা/উপজেলা/থানায় বিজিবি এবং উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড দায়িত্ব পালন করবে;
(গ) রিটার্নিং অফিসারের চাহিদা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করবে;
(ঘ) বিজিবি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করতে পারবে;
(ঙ) মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সসমূহ প্রয়োজনবোধে ভোটকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে দায়িত্ব পালন করবে; এবং
(চ) প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথ বাহিনী অপারেশন ও চেকপয়েন্ট অপারেশনে অংশ নেবে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব):
(ক) র্যাব মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে;
(খ) নির্বাচনী এলাকায় সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে;
(গ) রিটার্নিং অফিসারের চাহিদার প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করবে;
(ঘ) আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করতে পারবে;
(ঙ) মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সসমূহ প্রয়োজনবোধে ভোটকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে দায়িত্ব পালন করবে; এবং
(চ) প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথ বাহিনী অপারেশন ও চেকপয়েন্ট অপারেশনে অংশ নেবে।
বাংলাদেশ পুলিশ:
(ক) বাংলাদেশ পুলিশ নির্বাচনী এলাকায় সামগ্রিক শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বিধান এবং ভোটারদের জন্য আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে দায়িত্ব পালন করবে;
(খ) নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব সরঞ্জাম ও দলিল-দস্তাবেজ বহনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে;
(গ) নির্বাচন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে;
(ঘ) নির্বাচন কার্যালয়, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের নিরাপত্তা বিধান করবে;
(ঙ) স্থানীয় জননিরাপত্তা, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সুশৃঙ্খল লাইন করানোসহ স্থানীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে;
(চ) মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সসমূহ প্রয়োজনবোধে ভোটকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে দায়িত্ব পালন করবে;
(ছ) সংবেদনশীল কেন্দ্রসমূহে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সদস্য বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন; এবং
(জ) প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথ বাহিনী অপারেশন ও চেকপয়েন্ট অপারেশনে অংশ নেবে।
আনসার ও ভিডিপি:
(ক) রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্যান্য সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সাপেক্ষে দায়িত্ব পালন করবে;
(খ) নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব সরঞ্জাম ও দলিল-দস্তাবেজ বহনের সময় নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করবে;
(গ) ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সুশৃঙ্খল লাইন করানোসহ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে এবং সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারের আইনানুগ যেকোনো নির্দেশনা প্রতিপালন করবে;
(ঘ) প্রতি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য একজন অস্ত্রসহ আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে;
(ঙ) মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সসমূহ প্রয়োজনবোধে ভোটকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে দায়িত্ব পালন করবে; এবং
(চ) প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথ বাহিনী অপারেশন ও চেকপয়েন্ট অপারেশনে অংশ নেবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা:
(ক) অস্ত্র ও গোলাবারুদ স্ব স্ব বাহিনীর সদর দপ্তর নির্ধারণ করবে;
(খ) স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক আবাসন ব্যবস্থা নির্ধারণ করতে হবে;
(গ) স্ব স্ব বাহিনীর সদর দপ্তর তাদের রেশন নির্ধারণ করবে;
(ঘ) স্ব স্ব বাহিনীর সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী রোগী বা হতাহতদের জরুরি চিকিৎসা ও স্থানান্তরের জন্য বিমান বাহিনী প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেলিকপ্টার সুবিধাজনক স্থানে মোতায়েন করবে;
(ঙ) স্ব স্ব বাহিনী তাদের যানবাহন ব্যবহার ও নির্ধারণ করবে। নির্বাচন উপলক্ষে In Aid to Civil Power–এর আওতায় মোতায়েনকৃত সশস্ত্র বাহিনী রিটার্নিং অফিসার অথবা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বেসামরিক যানবাহন অধিযাচনপূর্বক ব্যবহার করতে পারবে;
(চ) এ সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয়ভার-সামরিক ও বেসামরিক যানবাহন, নৌযান, বিমান ও হেলিকপ্টারের জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও ভাড়া, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দৈনিক ভাতা, কনটিনজেন্সি, ক্যাম্প বা বাসস্থান এবং টেলিফোন বিলসহ নির্বাচন সংক্রান্ত সব বিল নির্বাচন কমিশন সচিবালয় বহন করবে;
(ছ) নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন খাতের ব্যয়ভার বাবদ অগ্রিম অর্থ নির্বাচন কমিশন প্রদান করবেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


