আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে মেক্সিকোর স্কুলগুলোতে আগাম ছুটি দেয়ার যে প্রস্তাব করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা থেকে সরে এসেছে দেশটির শিক্ষা কর্তৃপক্ষ। সোমবার এক জরুরি বৈঠকে বর্তমান শিক্ষাবর্ষের (২০২৫-২০২৬) ক্যালেন্ডার অপরিবর্তিত রাখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে মেক্সিকোর লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত পূর্বের সময়সূচীই বহাল থাকছে।

মেক্সিকোর কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর আগে প্রস্তাব করেছিল যে, জুলাইয়ের পরিবর্তে ৫ জুনের মধ্যেই শিক্ষাবর্ষ শেষ করে দেওয়া হোক। এই প্রস্তাবের পেছনে দুটি প্রধান কারণ ছিল, তীব্র দাবদাহ এবং বিশ্বকাপ ফুটবলের লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সাথে যৌথভাবে মেক্সিকো এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। আয়োজক শহরগুলোতে ভিড় এবং চাপ কমাতে কর্তৃপক্ষ আগেভাগে ছুটি দিতে চেয়েছিল।
তবে এই প্রস্তাবের পর থেকেই অভিভাবক ও বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ক্যালেন্ডার পরিবর্তনের ফলে দৈনন্দিন রুটিন এবং পারিবারিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী মারিও ডেলগাডো জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং রাজ্য কর্তৃপক্ষগুলো সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বের ১৮৫ দিনের স্কুল ক্যালেন্ডার বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অর্থ হলো, পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত ক্লাস চলবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবামের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এবং মেক্সিকোর লক্ষ লক্ষ পরিবারের রুটিন ও নিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবারগুলো তাদের দৈনন্দিন জীবন স্কুল ক্যালেন্ডারের ওপর ভিত্তি করে পরিচালনা করে, তাই তাদের সুবিধার বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সারাদেশে অভিন্ন ক্যালেন্ডার বহাল থাকলেও শিক্ষা কর্তৃপক্ষ কিছু নমনীয়তা রেখেছে। জানানো হয়েছে যে, চরম তাপদাহ বা বিশ্বকাপের কারণে সৃষ্ট বিশেষ লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মতো কোনো অসাধারণ পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজ্যগুলো স্থানীয়ভাবে সময়সূচিতে কিছুটা সমন্বয় করার সুযোগ পাবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
বিশ্বকাপের উত্তজনা ও গরমের চ্যালেঞ্জ থাকলেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান এবং পারিবারিক স্থিতিশীলতাকে মেক্সিকো সরকার বেশি গুরুত্ব দিল। ১৫ জুলাই পর্যন্ত স্কুল সচল রাখার এই সিদ্ধান্ত মূলত সাধারণ নাগরিকদের উদ্বেগ প্রশমনে প্রেসিডেন্টের একটি কৌশলী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর ফলে টুর্নামেন্ট চলাকালীন শিক্ষা কার্যক্রমে বড় কোনো বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা আপাতত কেটে গেল।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


