ইউটিউব ভিডিও ও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি আঙুর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন বগুড়ার তরুণরা। শখের বাগান থেকে শুরু করে এখন অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে আঙুরসহ বিভিন্ন বিদেশি ফল চাষ করে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার সারিয়াকান্দি, ধুনটসহ বিভিন্ন উপজেলায় শতাধিক তরুণ বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের সঙ্গে যুক্ত। তারা বাইকুনো, অ্যাপোলো, ব্ল্যাক ম্যাজিক, গ্রিন লং, ভ্যা লেজ এবং ভারতীয় চয়নসহ প্রায় ১৬ জাতের আঙুর চাষ করছেন। পাশাপাশি সৌদি মিষ্টি তেঁতুল, সফেদা, পেয়ারা ও আপেলের মতো বিদেশি ফলও বাগানে উৎপাদন হচ্ছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলার আব্দুর রহমান জানান, শখের বশে বাগান শুরু করলেও এখন এটি বাণিজ্যিক পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি। নিজের বাগানে উৎপাদিত ফল পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত ফল বিক্রি করে আয়ও করছেন।
অন্যদিকে ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের হেউটনগর গ্রামের আব্দুল হাকিম আঙুর চাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন। তিনি ইউটিউবে ভিডিও দেখে ২০২৪ সালে সাত শতাংশ জমিতে ভারতীয় চয়ন জাতের আঙুর চাষ শুরু করেন। প্রথম বছর ভালো ফলন পাওয়ার পর তিনি চলতি মৌসুমে ৫৭ শতাংশ জমিতে ৩২২টি গাছে ১৬ জাতের আঙুর চাষ করছেন।
তিনি জানান, প্রথম বছরে প্রায় এক লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় বছরে প্রায় দুই লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করেছেন। চলতি মৌসুমে প্রায় ১০ লাখ টাকার আঙুর বিক্রির আশা করছেন তিনি। বর্তমানে বগুড়া ও আশপাশের বাজারে প্রতি কেজি আঙুর ৩৭০ থেকে ৩৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান ফরিদ জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় তরুণ কৃষকেরা বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি আঙুরসহ নানা জাতের ফল চাষ করছেন। কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতায় তারা সফলতা পাচ্ছেন, যা একদিকে পারিবারিক চাহিদা পূরণ করছে এবং অন্যদিকে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



