
ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্তকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি, এই পদক্ষেপ ইতোমধ্যে ভঙ্গুর হয়ে পড়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকিতে ফেলবে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এসব কথা বলেন।
গত সোমবার থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ কার্যকর হয়েছে। এর মাত্র একদিন আগে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা ভেস্তে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে পারমাণবিক উচ্চাভিলাষ ত্যাগ করতে বাধ্য করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য মূলত চীনকে চাপে ফেলা। চীন ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক। ওয়াশিংটন চায় বেইজিং যেন তেহরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বাধ্য করে।
উল্লেখ্য, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান কার্যত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ করে দেয়। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত এই অবরোধকে তেহরানের সার্বভৌমত্বের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে বর্ণনা করেছেন।
এতদিন পর্যন্ত চীনের জাহাজগুলো কোনোমতে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারছিল। তবে এজন্য তারা ইরানকে কোনো মাশুল দিচ্ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। এখন মার্কিন অবরোধের ফলে চীনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা দেশটির অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, চীন বিশ্বাস করে, কেবল একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এবং যুদ্ধের অবসানই এই অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। আমরা সব পক্ষকে আলোচনার পথে ফেরার আহ্বান জানাই।
ইরানকে চীনের পক্ষ থেকে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের খবরকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে বেইজিং। এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, চীন যদি তেহরানকে সামরিক সহায়তা দেয়, তবে চীনা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। জবাবে গুও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি অজুহাত তুলে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে, তবে চীনও অবশ্যই পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের’ (ইকোনমিক টেররিজম) দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ইরানিরা যদি অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ চালাতে চায়, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেখিয়ে দিয়েছেন যে আমরাও একই খেলা খেলতে পারি। আমাদের নীতি সহজ—কোনো ইরানি জাহাজ আর বের হতে পারবে না।’
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী ওমান উপসাগর ও ভারত মহাসাগরে অবস্থান নিয়ে ইরানি বন্দরগুলো অবরোধ করবে। তবে ইরান বাদে অন্য দেশের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না। এদিকে বিবিসি ভেরিফাই-এর তথ্য অনুযায়ী, অবরোধের মধ্যেও মঙ্গলবার অন্তত চারটি ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ প্রণালি পার হয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অত্যন্ত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং এই চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত কি না—তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র মতভেদ রয়েছে। ইসরায়েল দাবি করছে, এই যুদ্ধবিরতি কেবল ইরানের জন্য প্রযোজ্য। ফলে তারা লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যেই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে মঙ্গলবার তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। ওদিকে বিশ্বজুড়ে এখন সবার নজর মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন উত্তেজনার দিকে।
সূত্র: বিবিসি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


