পথকুকুর ‘পাগল’ হয়ে গেলে কিংবা খুব বেশি ‘হিংস্র’ হয়ে গেলে তাকে মেরে ফেলা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। এরপর থেকেই কপালে ভাঁজ পড়েছে পশুপ্রেমীদের। ইতোমধ্যে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান রাস্তা থেকে হিংস্র পথকুকুরদের নির্মূল করার কথা ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে শীর্ষ আদালতের ঘোষণার সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন টালিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।

পথকুকুরদের হয়ে একাধিকবার সরব হয়েছেন টালিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। নিজেও পথকুকুরদের খেয়াল রাখেন তিনি। অভিনেত্রীর দাবি, শীর্ষ আদালতের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুলভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। তিনি বলেন, অসুস্থ বা রেবিস আক্রান্ত কুকুরদের ওষুধের মাধ্যমে চিরঘুমে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ আগে থেকেই ছিল। তবে তার আগে পশুচিকিৎসকের অনুমতি থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। পাঞ্জাবে যা চলছে, তা পশুদের প্রতি হিংসা থেকেই হচ্ছে।
কোনো কুকুর হিংস্র বা হিংস্রতা কতটা— এসব নির্ধারণ করবে কে? এই প্রশ্নও রেখেছেন অভিনেত্রী। শ্রীলেখা বলেন, প্রথমত কোনো প্রাণীই অকারণে কামড়াতে আসে না। কুকুর তো নয়ই। ওদের পেটভরা থাকলে নিশ্চিন্তে ঘুমায়।
তিনি বলেন, মানুষও তো খালি পেটে মেজাজ হারিয়ে ফেলে। তা ছাড়া মানুষের দ্বারা কখনো আঘাতপ্রাপ্ত হলে, সেই কুকুরদেরও আতঙ্ক তাড়া করে বেড়ায়। তাই আবার কোনো মানুষ ওদের কাছে গেলে, ওরা ভয়ে কামড়ে দেয়।
হিংস্র পথকুকুরদের রাস্তা থেকে উদ্ধার করে সুস্থ করে তোলারও প্রক্রিয়া আছে বলে জানিয়েছেন শ্রীলেখা মিত্র। তিনি বলেন, তাহলে কেন অবোলা জীবদের ওপর অত্যাচার?
এদিকে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক তথাগত মুখোপাধ্যায়ও পশুপ্রেমী হিসেবে পরিচিত। পশুদের অধিকার নিয়ে প্রায়ই সরব হন তিনি। অসুস্থ ও হিংস্র কুকুরদের এনেস্থেশিয়ার মাধ্যমে মেরে ফেলা নিয়ে তথাগত মুখোপাধ্যায় বলেন, বিভিন্ন দেশে মানুষের জন্য এ প্রক্রিয়ার অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু অবোলা প্রাণীদের ক্ষেত্রে এই শব্দ হাস্যকর! তারা তো বলতেই পারে না। তাহলে সেটা আর স্বেচ্ছামৃত্যু কীভাবে রইল? চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে সভ্য দেশে একটা অসুস্থ ও ‘হিংস্র’ প্রাণীকে এনেস্থেশিয়ার মাধ্যমে মেরে ফেলাটা অত্যন্ত অমানবিক।
তথাগত বলেন, নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ছাড়া কেউ যদি কোনো কুকুরকে আঘাত করে বা মারার চেষ্টা করে, তা দণ্ডনীয় অপরাধ। পাশাপাশি যথেষ্ট প্রামাণ্য তথ্য থাকতে হবে যে, কুকুরটি কাউকে কামড়েছে বা হিংস্র হয়ে উঠেছে অথবা মারণ রোগে অসুস্থ। আইন এটাই বলে। তবে আইনের ফাঁক খুঁজে কিছু লোক সুযোগ নেবে, সেটিও জানি।
তবে পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদল হওয়ার পর থেকে কিছুটা আশাবাদী বলে জানিয়েছেন তথাগত। তিনি বলেন, আগে কুকুরের কোনো ঘটনা হলে হেসে উড়িয়ে দেওয়া হতো। তবে এখন অন্তত অভিযোগ করা হচ্ছে। গুরুত্বটুকু দেওয়া হচ্ছে। গরুদের প্রাণকে মূল্য দেওয়া হচ্ছে। তাই প্রত্যাশা আছে— কুকুর ও অন্য প্রাণীদেরও প্রাণের মূল্য থাকবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
পথকুকুরদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বহু মানুষেরও। তাই কোনো আইন চালু করে পথকুকুরদের নির্মূল করা সহজ নয়, প্রয়োজনে হাই কোর্টেও কেউ আবেদন করতে পারেন বলে মনে করেন পরিচালক-অভিনেতা। তথাগত বলেন, আসলে নিষ্ঠুরতার প্রচার করবে, তেমন আইন তৈরিই হয়নি। ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আর নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে আমরা আগেও লড়েছি। আজীবন লড়ে যাব।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



