
জুমবাংলা ডেস্ক : বসুরহাট পৌরসভার আলোচিত মেয়র কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) রাতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, তাঁকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে বাদলকে সাদা পোশাকের লোকজন নিয়ে যাওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাদলের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেখা যায়। সেখানে তিনি লেখেন, ‘সবাই ধৈর্য ধরুন। দেহে একবিন্দু রক্ত থাকতেও প্রিয় নেত্রী ও প্রিয় নেতার অপমান আমরা সইব না। কোম্পানীগঞ্জকে অপশাসনের হাত থেকে মুক্ত করব ইনশাআল্লাহ। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দেখা হবে মুক্ত কোম্পানীগঞ্জে।’
এই স্ট্যাটাস ছড়িয়ে পড়ার পর বাদলের অনুসারীরাও এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন।
এর আগে গতকাল বিকেল সোয়া ৪টার দিকে নোয়াখালীর প্রেস ক্লাব এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে বাদলকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। তখন পরিবার জানিয়েছিল, সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা তাঁকে তুলে নিয়ে গেছে।
বাদলকে তুলে নেওয়ার ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কয়েকজন নেতাকর্মীসহ বাদল প্রেস ক্লাবের পশ্চিম পাশের রেড ক্রিসেন্ট মার্কেটের একটি চায়ের দোকানে চা পান করছিলেন। এ সময় একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস এসে সেখানে দাঁড়ায়। এক মিনিটের মধ্যেই ওই মাইক্রোবাস থেকে কয়েকজন বের হয়ে বাদলকে তুলে নেয়। এরপর মাইক্রোবাসটি জেলা জজ আদালতের সড়ক হয়ে পশ্চিম দিকে শহরের মূল সড়কের দিকে চলে যায়।
মিজানুর রহমান বাদলের ছোট ভাই রহিম উল্যাহ বিদ্যুৎ জানান, তাঁর ভাইকে ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন কাদের মির্জাকে গ্রেপ্তার করছে না?’
এদিকে মঙ্গলবারের সংঘর্ষের পর বসুরহাট এলাকায় যে থমথমে পরিস্থিতি ছিল, তা গতকাল অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল । তবে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখনো কাটেনি। পর্যাপ্ত পুলিশ ও র্যাবের টহল অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সকাল থেকে বসুরহাট বাজারে দোকানপাট খোলার পাশাপাশি স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করেছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি জানান, মঙ্গলবার রাতের সংঘর্ষে পৌর ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় গতকাল সকালে বসুরহাট পৌরসভার নৈশপ্রহরী নুরনবী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে শতাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ এবং শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে।
উল্লেখ্য, কোম্পানীগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশের বিরোধের জেরে গত দেড়-দুই মাস ধরে পুরো উপজেলায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কোম্পানীগঞ্জের চাপরাশিরহাট বাজারে আবদুল কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
এ সময় গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি মারা যান। এরপর গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা চত্বরে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আলাউদ্দিন নামের যুবলীগের এক কর্মী মারা যান। এ ছাড়া ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


