সুস্থ থাকতে অন্ত্রের বা পেটের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অপরিহার্য। আর পেটের বন্ধু হিসেবে প্রাচীনকাল থেকেই দইয়ের কদর রয়েছে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও বলছে, দইয়ে থাকা ‘প্রোবায়োটিক’ বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া হজমপ্রক্রিয়াকে সচল রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনন্য। তবে প্রশ্ন জাগতে পারে—সরাসরি টক দই খাওয়া ভালো নাকি দইয়ের ঘোল? পুষ্টিবিদদের মতে, দুটিরই গুণাগুণ থাকলেও শারীরিক অবস্থা ভেদে এর উপযোগিতা ভিন্ন হতে পারে।

প্রোবায়োটিকের সহজ উৎস টক দই
সকালের নাস্তায় বা দুপুরের খাবারের পর এক বাটি টক দই খাওয়ার অভ্যাস হজমশক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এতে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করে। ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ টক দই হাড় ও দাঁত মজবুত করতে এবং পেশি গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ মেয়াদে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করছেন বা কোনো সংক্রমণ থেকে সেরে উঠেছেন, তাদের দ্রুত সুস্থতায় টক দই অত্যন্ত কার্যকর।
সহজপাচ্য পানীয় হিসেবে ঘোল
পুষ্টিগুণের বিচারে টক দইয়ের চেয়েও ঘোল বা ‘বাটার মিল্ক’ বেশি সহজপাচ্য। দই ফেটিয়ে তাতে পুদিনা, বিট লবণ, জিরে গুঁড়ো ও আদা মিশিয়ে তৈরি ঘোল শরীরকে আর্দ্র (হাইড্রেটেড) রাখতে সাহায্য করে। যাদের দুগ্ধজাত খাবারে কিছুটা অ্যালার্জি (ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স) রয়েছে, তাদের জন্য দইয়ের চেয়ে ঘোল বেশি নিরাপদ। এছাড়া খাবারে অরুচি দূর করতে ঘোলের জুড়ি নেই।
কার জন্য কোনটি শ্রেয়?
শারীরিক ভিন্নতা অনুযায়ী দই বা ঘোলের পছন্দ বদলে যেতে পারে:
ওজন নিয়ন্ত্রণে: যারা দ্রুত মেদ ঝরাতে চান, তাদের জন্য ঘোল বেশি উপযোগী। কারণ এতে দইয়ের তুলনায় ক্যালরি ও ফ্যাটের পরিমাণ বেশ কম থাকে।
গ্যাস-অম্বলের সমস্যায়: নিয়মিত অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যায় ভোগা রোগীদের জন্য ঘোল বা পাতলা ছাঁচ বেশি আরামদায়ক।
শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি: দীর্ঘদিনের হাঁপানি বা সিওপিডি-র সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের দই এড়িয়ে চলাই ভালো। দই শ্লেষ্মা বাড়িয়ে দিতে পারে, তাই এসব ক্ষেত্রে ঘোল তুলনামূলক নিরাপদ।
শিশুদের জন্য: বাড়ন্ত শিশুদের হাড়ের গঠন ও পর্যাপ্ত প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে সরাসরি টক দই খাওয়ানো বেশি ফলপ্রসূ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ পেটের জন্য দই বা ঘোল—দুটিই সুপারফুড। তবে নিজের শারীরিক প্রয়োজন বুঝে সঠিকটি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


