ফাইল ছবি
Advertisement
জুমবাংলা ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে দোকান ঘর নির্মাণের জন্য জেলার বিজয়নগর উপজেলার খাল বরাদ্দ দেওয়ার দরখাস্ত আহ্বানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খালটি বরাদ্দ দিলে ওই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

রবিবার (২৭ ডিসেম্বর) এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন জেলার বিজয়নগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দীপক চৌধুরী বাপ্পী।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আখাউড়া-চান্দুরা, মির্জাপুর-হরষপুর সড়কের মির্জাপুর মৌজার ২৯০ দাগ, মির্জাপুর-হরষপুর সড়কের পাইকপাড়া মৌজার ৩৩৪ দাগ, একই সড়কের বাগদিয়ার ৩১০ দাগসহ বিজয়নগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জায়গা বরাদ্দের জন্য গত ২২ অক্টোবর একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। যেসব দাগের কথা উল্লেখ করা আছে, সেগুলো এখনও খাল হিসেবে বিদ্যমান। এসব খাল ভরাট করে ইজারাদাররা দোকানপাট নির্মাণ করলে এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি শত শত একর জমির সেচ কাজে বিঘ্ন ঘটবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়বে।

আবেদনে অভিযোগে করা হয়, উপজেলার যে সব জায়গার জন্য দরখাস্ত আহ্বান করা হয়েছে সেটির সামনে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু সরকারি বিধি অনুযায়ি কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে মার্কেট নির্মাণে বিধি নিষেধ রয়েছে। খাল এবং জলাশয় রক্ষার জন্য আইনে সুস্পষ্ট ব্যাখা ও প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা থাকলেও এক্ষেত্রে জেলা পরিষদ সেটির তোয়াক্কা করেননি।

এদিকে ৩০ নভেম্বর দরখাস্ত দাখিলের শেষ সময় হলেও প্রায় তিন সপ্তাহ পরেও দরখাস্ত নেওয়ার হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। জেলা পরিষদের কর্মচারী মো. আমির হোসেন অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য পছন্দের লোকজনকে ডেকে এনে দরখাস্ত জমা নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

জেলা পরিষদের ভূমি বিভাগের উচ্চমান সহকারী মো. আমির হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রথমে তিনি সাংবাদিকদের জানান, নির্ধারিত তারিখের পর কারও কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়নি। পরে আবার বলেন, অনেকে নির্ধারিত সময়ের পর দরখাস্ত নিয়ে আসে। তাদের কয়েকজনের দরখাস্ত রেখেছি। কিন্তু এগুলো বাতিল হয়ে যাবে।

এই প্রসঙ্গে জেলা পরিষদ সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘ওই এলাকাটি আমার আওতাধীন। কিন্তু ভূমি লিজ দেওয়ার বিষয়ে আমার মতামত নেওয়া হয়নি। পরে জানতে পারি যে ভূমিটি লিজ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে সেটি সম্পূর্ণ খাল। আর খালের পাশেই সরকারি রাস্তা। যে কারণে ওই জায়গা লিজ দিলে খাল ভরাট করে দোকান নির্মাণ করতে হবে। এতে ওইসব এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে।’

এই ব্যাপারে বিজয়নগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযোগ হয়ে থাকলে সেখান থেকে নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘খালের যেনও ক্ষতি না হয় সেদিক খেয়াল রেখেই ভূমি বরাদ্দ দেওয়া হবে। খালের পাশে যে খালি জায়গা আছে সেখানে দোকান করা যাবে। এতে ওই এলাকার মানুষেরই উপকার হবে। উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে এই ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে।’ সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.