ভূমিকম্প কেন হয়, আগে-পরে কী পরিবর্তন দেখা যায়, প্রাণীর আচরণ, পানির অস্বাভাবিকতা, ঐতিহাসিক তথ্যসহ ভূমিকম্প নিয়ে ১২টি বিস্ময়কর তথ্য জানুন। সাম্প্রতিক বাংলাদেশে ঘনঘন ভূমিকম্পের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

ভূমিকম্প

Advertisement

জুমার নামাজের পরপরই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পরপরই দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়।। সম্প্রতি এ ধরনের ভূমিকম্পের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। এই ভূমিকম্প নিয়েই ১২টি বিস্ময়কর তথ্য তুলে ধরা হলো:

১. পৃথিবীতে বছরে লাখ লাখ ভূমিকম্প হয়

আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জিওলজিক্যাল সার্ভে বলছে, প্রতি বছর গড়ে ১৭টি বড় ভূমিকম্প হয়—রিখটার স্কেলে যার মাত্রা সাতের বেশি। আট মাত্রার ভূমিকম্প হয় একবার। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বছরে লাখ লাখ ভূমিকম্প হয়। এর অনেকগুলো বোঝাই যায় না—কারণ সেগুলো হয় প্রত্যন্ত এলাকায় অথবা মাত্রা থাকে খুবই কম।

২. ভূমিকম্পের কারণে দিনের দৈর্ঘ্যে আসতে পারে তারতম্য

২০০৯ সালের ১১ মার্চ জাপানের উত্তর-পূর্বে ৮ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে পৃথিবীর ভরের বণ্টনে পরিবর্তন আসে। এতে পৃথিবী সামান্য দ্রুত ঘুরতে থাকে এবং দিনের দৈর্ঘ্য কমে যায়। সেই দিনটির দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৮ মাইক্রো সেকেন্ড ছোট ছিল।

৩. সান ফ্রান্সিসকো সরে যাচ্ছে লস অ্যাঞ্জেলসের দিকে

সান অ্যানড্রেয়াস ফল্টের কারণে সান ফ্রান্সিসকো শহর প্রতিবছর গড়ে দুই ইঞ্চি করে লস অ্যাঞ্জেলসের দিকে সরে যাচ্ছে। একই গতিতে মানুষের নখও বাড়ে। এই গতিতে চলতে থাকলে কয়েক লাখ বছর পর দুটি শহর হয়ত এক সাথে মিলে যাবে।

৪. ভূমিকম্পের আগে স্থির পানি থেকে গন্ধ বের হয়

বিজ্ঞানীদের মতে, ভূমিকম্পের আগে পুকুর–খাল–বিলের স্থির পানি থেকে দুর্গন্ধ আসতে পারে এবং পানি কিছুটা উষ্ণও হতে পারে। প্লেট সরে যাওয়ার কারণে মাটির নিচ থেকে গ্যাস বের হয়, আর এ কারণেই এমন হয়। এতে এলাকার বাসিন্দা ও প্রাণীদের আচরণেও পরিবর্তন দেখা যায়। ২০০৯ সালে এক ভূমিকম্পের আগে ইতালি থেকে এক প্রজাতির ব্যাঙ উধাও হয়ে যায়। ভূমিকম্পের পর তারা ফিরে আসে।

৫. ভূমিকম্পের পরেও পানিতে ঢেউ উঠতে পারে

ভূমিকম্প শেষ হলেও পুকুর বা সুইমিং পুলের পানিতে কয়েক ঘণ্টা ঢেউ দেখা যেতে পারে। একে বলা হয় ‘স্লো ওয়েভ’। ১৯৮৫ সালে মেক্সিকোতে ভূমিকম্পের প্রভাবে অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলের পানি ছিটকে পড়তে পড়তে শেষ হয়ে যায়।

৬. ভূমিকম্প বিবেচনায় ইনকা সভ্যতা ও জাপানি স্থাপত্য

ইনকা আমলের স্থাপত্য ও জাপানি প্যাগোডা ভূমিকম্প সহনশীল করে নির্মিত হয়েছিল। ৫০০ বছর আগে ইনকার কারিগররা মাচু পিচুর ঘরবাড়ি নির্মাণে এমন কৌশল ব্যবহার করেছিলেন যাতে ভূমিকম্পে ভবন ধসে না পড়ে।

৭. বেশির ভাগ ভূমিকম্পের উৎস প্রশান্ত মহাসাগর

বিশ্বের ৯০ শতাংশ ভূমিকম্প ঘটে ‘রিং অফ ফায়ার’–এলাকাজুড়ে, যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে।

৮. ভূমিকম্পে চিলির একটি শহর ১০ ফুট সরে যায়

২০১০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে চিলির কনসেপসিওন শহর প্রায় ১০ ফুট পশ্চিমে সরে গিয়েছিল।

৯. ভূমিকম্পে খাটো হয়ে যায় এভারেস্ট

২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল নেপালের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা প্রায় এক ইঞ্চি কমে যায়।

১০. জাপানি পুরাণে ভূমিকম্পের কারণ এক বিশাল ক্যাটফিশ

জাপানি পৌরাণিক কাহিনীতে বলা হয়—নামাজু নামের বিশাল ক্যাটফিশ নড়াচড়া করলেই ভূমিকম্প হয়। গ্রিক পুরাণে বলা হয়েছে, সমুদ্রের দেবতা পসেইডন রেগে পৃথিবী আঘাত করলে ভূমিকম্প ঘটে। আর হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, পৃথিবী নাকি আটটি হাতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে; হাতি–কচ্ছপ–সাপের কেউ নড়লেই ভূমিকম্প হয়।

১১. ভূমিকম্পের আগে প্রাণীর আচরণ পরিবর্তন হয়

২০০৪ সালের সুনামির আগে দক্ষিণ এশিয়ার বহু স্থানে পশুপাখিকে উঁচু জায়গার দিকে ছুটতে দেখা গিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রাণীরা ভূমিকম্পের ক্ষুদ্র কম্পন আগে থেকেই অনুভব করতে পারে।

আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো আইভীকে

১২. এক ব্রিটিশ বিজ্ঞানী প্রথম ভূমিকম্পের কারণ চিহ্নিত করেন

১৮০০ সালের শুরুর দিকে ব্রিটিশ প্রকৌশলী জন মাইকেল ভূ-পৃষ্ঠের নিচে শিলাখণ্ডের অবস্থান পরিবর্তনই ভূমিকম্পের কারণ—এ কথা প্রথম ব্যাখ্যা করেন। তাঁকে ভূকম্পনবিদ্যার অন্যতম জনক বলা হয়।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Md Elias is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency across digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and reader-focused reporting.