জুমবাংলা ডেস্ক : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গান্ধীগাঁও গ্রামের ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন তার ভিক্ষা করে জমানো ১০ হাজার টাকা ত্রাণ তহবিলে জমা দিয়ে যে মহানুভবতা দেখিয়েছেন তা দেশজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। তার এ দানের খবর পৌঁছে গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও। এরপর তিনি নজিমুদ্দিনকে জমিসহ ঘর দেওয়ার কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে উপহার পাওয়ার খবরে নজিমুদ্দিনের প্রতিক্রিয়া জানতে আজ সোমবার সকালে এই প্রতিবেদক তার কাছে যান। তখন তিনি বলেন, ‘আমি তো খুশির উপরে খুশি, হাসিনা (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যহন জিনিসটে আমারে দিছে, আমি দোয়া করি আল্লাহ যেন হাসিনারে সুহে (সুখে) রাহে, হায়াত বাড়াই দেয়।’

গত ২১ এপ্রিল কর্মহীনদের খাদ্য সহায়তার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ত্রাণ তহবিলে গত দুই বছরে সঞ্চয়ের ১০ হাজার টাকা দান করেন ওই ভিক্ষুক। নিজের ভাঙা বসতঘর মেরামত করার জন্য ভিক্ষা করে ওই টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। এ নিয়ে আমাদের সময়সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নজিমুদ্দিনকে ১২ শতক জমি এবং পাকা বাড়ি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া জীবিকা নির্বাহের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে একটি মুদি দোকান।

ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন এর আগে অন্য কোথাও দান করেছেন কিনা এ প্রতিবেদক জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন আগে যহন কামাই-টামাই করছি তহন জুম্মাঘর, মাদ্রাসায় ১০০, ২০০, ৫০০ টেহা দান করছি। কিন্তু যহন বয়স হইল, বুইড়ে হইলাম তহন তো আমার কামাই করবার উপায় নাই, খড়ি-টড়ি (লাকড়ি) কাইটে আর কোদালের আছাড়ি বানায়ইয়া বাজারত বিক্রি কইরা সংসার চালাইতাম। একদিন পাহাড়ের ড্রেনে পুইড়ে গেয়ে (পড়ে গিয়ে) পা ভাঙল, কাম-কাজ করবার পাই না। মানুষ কামলাও নেই না। পরের থেইক্যা ভিক্ষা কইরে খাওয়া শুরু করলাম। তাই আর দান করবের পাই নাই। ’

এবার কেন দান করতে ইচ্ছা হলো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ভিক্ষা করতে করতে খাইয়ে-খুইয়ে ১০ হাজার টেহা (টাকা) ডাইনে (আয়) হইল। টেহাডি ঘর-দরজা ঠিক করবার জন্যে তুইছিলাম (রেখেছিলাম)। কিন্তু এহন দেশে আইলো করোনা, শুরু হইল দশের অভাব। ভাবলাম বয়স হইয়া গেছে মইরাই যামুগা। এই ট্যাহাগুলান যদি মাইনসের কাজে লাগে, এই চিন্তার থ্যাইক্কা দশের জন্যে টেহাগুইলে ইউএনওরে দিমু। কিন্তু আমি তো ইউএনওরে চিনি না। তাই বকুল মেম্বার আর লতিফা মেম্বারনীরে কইলাম আমারে ইউএনও সাবের কাছে নিয়া যাও। পরে ইউএনওর হাতে দশের জন্যে টেহাগুইলে দিলাম। ’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নজিমুদ্দিন ১৯৪০ সালের ৭ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। দুই ভাই আর দুই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ব্যক্তি জীবনে তিনি তিনটি বিয়ে করেছেন। তার প্রথম স্ত্রীর নাম ময়না খাতুন। সে ঘরে মমেন আলী নামে তার এক ছেলে রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম হালেমা বেগম। ওই ঘরে নজেদা খাতুন নামে এক কন্যা সন্তান আছে তার। এ মেয়েটি মানসিক রোগী। ওই দুই স্ত্রীর সঙ্গে অনেক আগেই তার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। আর বর্তমান স্ত্রীর নাম আবেদা খাতুন। আবেদা বিকলাঙ্গ ও মানসিক রোগী। এ ঘরে আসকর আলী, সুন্দরী, তানজিলা ও আবদুল্লাহ নামে চারজন সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে ছেলে আসকর আলী বিয়ে করে আলাদা থাকেন, আর মেয়ে সুন্দরীর বিয়ে হয়েছে বেশ কিছু দিন আগে।

ছেলে মেয়েরা খোঁজ-খবর নেন কিনা জানতে চাইলে নজিমুদ্দিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী পাওয়ার পর তারা (ছেলে মেয়েরা) দেখা করতে এসেছিল।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদ জানান, আজ সোমবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিক্ষুক নজিমুদ্দিনকে এক মাসের খাদ্য সামগ্রী উপহার দেওয়া হয়েছে। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল ও আলুসহ অন্যান্য সামগ্রী।

এ বিষয়ে শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এবিএম এহছানুল মামুন বলেন, ‘ভিক্ষুক নজিমুদ্দিনকে সব কিছু দ্রুত সময়ের মধ্যে তার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.