প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এককভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে মার্কিন সিনেটে পঞ্চমবারের মতো একটি প্রস্তাবের ওপর ভোটের আয়োজন করতে চায় ডেমোক্র্যাটরা।
সিনেটের সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এই ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এই ভোটের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও সামরিক তৎপরতা বন্ধ করা।
মূলত ট্রাম্প যাতে কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া কোনো বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই ডেমোক্র্যাটরা এই মরিয়া প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই রাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টি উঠে এসেছে।
চাক শুমার রিপাবলিকান সিনেটরদের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, যখন মার্কিন সেনারা সম্মুখসমরে নিজেদের জীবন বাজি রাখছেন, তখন রিপাবলিকানদের হাত গুটিয়ে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা রিপাবলিকানদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বাধ্য করবেন।
শুমার আরও উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দেওয়ার মতো যথেষ্ট সাহসী রিপাবলিকান খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটরা তাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার চূড়ান্ত ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতে থাকলেও বর্তমানে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।
সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটরা বারবার চেষ্টা করে আসছেন যাতে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে বাধ্য থাকেন। তবে উভয় কক্ষেই ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকানরা অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখায় ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাবগুলো বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
রিপাবলিকানরা মনে করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা আশঙ্কা করছেন যে, ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও বিধ্বংসী যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডেমোক্র্যাটদের এই নতুন উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা যখন চরমে, তখন দেশের অভ্যন্তরে ক্ষমতার এই দ্বন্দ্ব হোয়াইট হাউসের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে ডেমোক্র্যাটরা চাইছেন ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে, যাতে প্রেসিডেন্টের কোনো হঠকারী সিদ্ধান্তে বড় ধরনের জাতীয় সংকট তৈরি না হয়। পঞ্চমবারের এই ভোট শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকানদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: আলজাজিরা
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


