
পরে বড় লাটের লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের অনুবাদ বিভাগের মুনশি হন। ১৮৬৫ সালে ওবায়দুল্লাহ সোহরাওয়ার্দী হুগলি কলেজে অ্যাংলো-আরবির অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। বিখ্যাত লেখক ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন তাঁর ছাত্র। ১৮৭৪ সালে ঢাকা মাদরাসার প্রথম সুপারিনটেন্ডেন্ট নিযুক্ত হয়ে আমৃত্যু ওই পদে বহাল ছিলেন। তিনি আলীগড় মহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজের (১৮৭৫) পরিচালনা কমিটিরও সদস্য ছিলেন।
শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। কলকাতার মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি, সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মহামেডান অ্যাসোসিয়েশন, বেঙ্গল সোশ্যাল সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন প্রভৃতি সংগঠনে সক্রিয় ছিলেন। ঢাকা কলেজের তৎকালীন ছাত্রদের উদ্যোগে গঠিত ঢাকা মুসলমান সুহৃদ সম্মিলনের (১৮৮৩) তিনিই ছিলেন প্রধান উৎসাহদাতা।
ওবায়দুল্লাহ উর্দু, আরবি, ফারসি ও ইংরেজি ভাষায় একাধিক মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন। বিদেশি ভাষা থেকেও একাধিক বই অনুবাদ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে উর্দু দিওয়ান (১৮৮০), ফারসি দিওয়ান (১৮৮৬), দস্তর-ই-পার্সি আমুজ (ফারসি ব্যাকরণ), লুববুল আরাব (আরবি ব্যাকরণ), মিফতাহুল আদাব (উর্দু ব্যাকরণ), দবিস্তান-ই-দানিশ আমুস (উর্দু, পদার্থবিদ্যা), দস্তর-ই-ফার্সি-আমুস (ফারসি, ছন্দ ও অলংকার), দস্তান-ই-ইবরাতবার (ফারসি, আত্মজীবনী) প্রভৃতি। তাঁর Mahomedan Education in Bengal (১৮৬৭) শিক্ষাবিষয়ক একখানি মৌলিক গ্রন্থ।
জ্ঞান, শিক্ষা ও সমাজের ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের জন্য ভারত সরকার তাঁকে ‘বাহার-উল-উলুম’ (বিদ্যাসাগর) উপাধিতে ভূষিত করে। তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাহার-উল-উলুম ওবায়দী সোহরাওয়ার্দী’ পদকটি আজও প্রচলিত আছে। ১৮৮৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ওবায়দুল্লাহর মৃত্যু হয়।
বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে হাবিবা রহমান উজরা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



