মানুষের জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ধন-সম্পদ, ক্ষমতা বা খ্যাতি নয়; বরং সবচেয়ে বড় নিয়ামত হলো সময়। হারিয়ে যাওয়া সম্পদ পুনরায় অর্জন করা সম্ভব হলেও চলে যাওয়া একটি মুহূর্ত কখনো ফিরে আসে না। দিন-রাতের আবর্তন, মাস ও বছরের পরিবর্তন এবং শৈশব থেকে বার্ধক্যের দিকে মানুষের যাত্রা আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় যে পৃথিবীর জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং আমরা সবাই একটি নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলেছি।

প্রতিটি নতুন দিন মানুষের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়, আবার প্রতিটি দিন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের একটি অধ্যায়ও সমাপ্ত হয়। তাই একজন সচেতন মুমিনের কাছে সময়ের পরিবর্তন কেবল ক্যালেন্ডারের হিসাব নয়; বরং আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, মানুষ যেন তার আগামী দিনের জন্য কী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে তা বিবেচনা করে।
সময়ের পরিবর্তনের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বহু শিক্ষা। পৃথিবীর সবকিছুই পরিবর্তনশীল। সুখ-দুঃখ, শক্তি-দুর্বলতা, যৌবন-বার্ধক্য এবং জীবন-মৃত্যুর ধারাবাহিকতা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে এই দুনিয়া স্থায়ী আবাসস্থল নয়। একসময় যে মানুষগুলো একসঙ্গে ছিল, সময়ের ব্যবধানে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যে ঘর একদিন কোলাহলে মুখর ছিল, একসময় তা নীরব হয়ে পড়ে। এসব বাস্তবতা মানুষকে আখিরাতমুখী জীবন গঠনের শিক্ষা দেয়।
দিন ও রাতের পরিবর্তনও আল্লাহর অসীম ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। চিন্তাশীল মানুষ এসব পরিবর্তনের মধ্যে সৃষ্টিকর্তার মহিমা উপলব্ধি করে এবং তাঁর স্মরণে নিজেকে নিয়োজিত রাখে। প্রকৃত মুমিন সময়ের প্রবাহ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে নিজের আমল ও কর্মজীবনের হিসাব নেয়।
নতুন হিজরি বছরের সূচনা এ ধরনের আত্মসমালোচনার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একটি বছর বিদায় নেওয়ার পর নতুন বছরের আগমন মানুষকে তার অতীত কাজের মূল্যায়নের সুযোগ দেয়। এ সময় একজন ব্যক্তি নিজেকে প্রশ্ন করতে পারে—গত বছরে সে কী অর্জন করেছে, ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রে তার অবস্থান কেমন ছিল এবং সমাজ ও মানুষের জন্য কতটুকু কল্যাণকর কাজ করতে পেরেছে। একই সঙ্গে ভুলত্রুটির জন্য তাওবা এবং ভবিষ্যতে উত্তম কাজের অঙ্গীকার করারও এটি উপযুক্ত সময়।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সময় অপচয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অনলাইন বিনোদনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করার ফলে অনেকেই জীবনের মূল্যবান সময় হারিয়ে ফেলছেন। কোরআন অধ্যয়ন, জ্ঞানার্জন, পরিবারকে সময় দেওয়া, আত্মউন্নয়ন এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হচ্ছে। অথচ মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সুস্বাস্থ্য ও অবসর সময়কে এমন দুটি নিয়ামত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেগুলোর ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাই নতুন হিজরি বছরের শুরুতে প্রত্যেকের উচিত সময়ের গুরুত্ব উপলব্ধি করা, অতীতের ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে তাওবা করা এবং নেক আমলের মাধ্যমে জীবনকে সমৃদ্ধ করার অঙ্গীকার করা। সময়ের সঠিক ব্যবহারই পারে একজন মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার পথে এগিয়ে নিতে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



