ইসলামে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মুমিনদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সম্পর্কের বন্ধন অটুট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সম্পর্কের প্রতি যত্নশীল হওয়া ইমানের অন্যতম অংশ।

সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে অনেক সময় ত্যাগ স্বীকার করতে হয় এবং অন্যের ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখতে হয়। কারণ মানুষের সঙ্গে চলতে গেলে মতভেদ, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা কষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হতেই পারে। এমন অবস্থায় ধৈর্য ধারণ ও ক্ষমাশীলতা প্রদর্শনকে ইসলাম অত্যন্ত মর্যাদার কাজ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
হাদিসে এসেছে, মুমিনের পায়ে একটি কাঁটা বিঁধলেও সে এর বিনিময়ে সওয়াব লাভ করে এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। তাই কারও কাছ থেকে কষ্ট পেলে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তা সহ্য করা উত্তম।
আরেক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, কিয়ামতের দিন ধৈর্যশীল ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ দেখে অন্যরা আফসোস করবে এবং দুনিয়ায় আরও বেশি ধৈর্য ধারণ করার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করবে।
ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পর্ক বজায় রাখার অর্থ হলো, মানুষের প্রাপ্য অধিকার যথাযথভাবে আদায় করা এবং সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না করা। কারও সঙ্গে সবসময় ওঠাবসা, খাওয়াদাওয়া বা ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক নয়। তবে তার ন্যায্য অধিকার আদায় করা এবং অন্যায়ভাবে সম্পর্ক ছিন্ন না করাই মূল দায়িত্ব।
যদি কারও সঙ্গে মনোমালিন্য থাকে, তবুও তার প্রতি অবিচার করা বা সম্পর্ক পুরোপুরি নষ্ট করে দেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়। বরং প্রয়োজনীয় দায়িত্ব ও অধিকার আদায়ের মাধ্যমে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাদিসে আরও উল্লেখ রয়েছে, মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ও শত্রুতা সৃষ্টি করা শয়তানের অন্যতম বড় লক্ষ্য। বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারলে শয়তান সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হয়। তাই দুই মুসলমানের মধ্যে, বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
ইসলাম মানুষকে ক্ষমা, ধৈর্য, সহমর্মিতা ও সম্পর্ক রক্ষার শিক্ষা দেয়। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এসব গুণের বিকল্প নেই। তাই একজন মুমিনের উচিত সম্পর্কের মূল্য দেওয়া, অন্যের প্রতি সদাচরণ করা এবং সবসময় মিল-মহব্বত বজায় রাখার চেষ্টা করা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



