এম ইব্রাহিম সরকার: রাজধানীর অপরাধ জগতের শীর্ষ সন্ত্রাসী হারিছ আহমেদ-সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যার বদলা নিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ড। সাবেক সেনা প্রধান আজিজ আহমেদের ভাই শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ আহমেদ বর্তমানে দুবাই থেকে ঢাকার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করছেন। এই জোসেফ আহমেদ সরকার কর্তৃক পুরস্কার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে অন্যতম। গতকাল ২৮ এপ্রিল নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে ফ্লিমি স্টাইলে খুন হন খন্দকার নঈম আহমেদ টিটন (৬০)। এছাড়া গত বছর পুরান ঢাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈদ মামুন। খুন হওয়া মামুন এবং টিটন শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় রয়েছে। নিহত মামুন ও টিটন দুজনেই সাবেক সেনা প্রধান আজিজ আহমেদের ভাই শীর্ষ সন্ত্রাসী সাঈদ আহমেদ টিপু, হারিছ আহমেদ এবং চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার আসামি।

২০২৩ সালে মামুন খুন হওয়ার পর ডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছিল মামুনের বন্ধু ইমনের শুটাররা গুলি করে হত্যা করেছিল। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহ নিউমার্কেটে খুন হওয়া টিটনের ছোট বোন জামাই শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন অথবা জোসেফ গ্রুপের সদস্যরা এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। এই হত্যাকান্ডের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা তদন্তে নেমেছেন। তদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মামুন প্রায় ২ যুগ জেল খেটে ২০২৩ সালে জামিনে মুক্তি পেয়ে অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করে। তেজগাঁও আফতাবনগর রামপুরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে তখন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে জোসেফ আহমেদ এবং মামুনের বন্ধু শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন।
ইমন জেলে থেকে আর জোসেফ দুবাই থেকেই তাদের পৃথক গ্রুপের কিলারদের মাধ্যমে মামুনকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
২০২৩ সালে ১৮ নভেম্বর তেজগাঁওয়ে মামুনকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথারী গুলি করে চার সন্ত্রাসী। তবে তখন মামুন আহত হলেও সন্ত্রসীদের গুলিতে পথচারী এ্যাডভোকেট ভূবন চন্দ্র শীল মারা যায়। আরো এক পথচারী আহত হয়। এঘটনার কয়েক মাস পরই পুনরায় সন্ত্রসীদের গুলিতে নিহত হয় তারিখ সাঈদ মামুন।
১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত ইমন-মামুন গ্রুপ নিয়ন্ত্রন করতো ধানমন্ডি হাজারীবাগ ঝিগাতলা মোহাম্মদপুর এলাকা। ইমন-মামুন গ্রুপ ১৯৯৯ সালে রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকায় গাড়ীর ভীতরে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে সাবেক সেনা প্রধান আজিজ আহমেদের ভাই শীর্ষ সন্ত্রাসী সাঈদ আহমেদ টিপু এবং হারিছ আহমেদকে।
একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালে মামুন খুন হওয়ার পর মামুনের সহযোগী খোকন ও মিঠু মাঠে সক্রিয় রয়েছে হত্যার বদলা নিতে। জোসেফ আহমেদ দুবাই বসেই তার ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যার বদলা নিতে কিলার বাদলের মাধ্যমে একটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এই গ্রুপ সন্ত্রাসী ইমনকে খুজে বেড়ায়। টোটনের গ্রুপের সদস্যরা তাদের বস খুনের বদলা নিতে মরিয়া হয়ে উঠবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ব্যাপারে তৎপর হয়ে না উঠলে শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ, ইমন এবং নিহত টিটন এবং মামুন গ্রুপের পারস্পরিক দ্বন্ধে রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ড আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুনঃ
উল্লেখ্য যে পুরস্কার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে পিচ্চি হান্নান ও চিকনা মনির বন্দুকযুদ্ধে এবং আলাউদ্দিন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছিল।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


