চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে নাসার আর্টেমিস কর্মসূচি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে। ২০২৭ সালে পরিকল্পিত আর্টেমিস-৩ মিশনের জন্য চারজন নভোচারীর নাম ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা। তবে এবার সরাসরি চাঁদে অবতরণের পরিবর্তে মিশনটি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে একটি জটিল পরীক্ষামূলক মহড়া হিসেবে পরিচালিত হবে।

নাসা জানায়, এই মিশনে নভোচারীরা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) রকেটে করে ওরিয়ন মহাকাশযানে যাত্রা করবেন। মহাকাশে পৌঁছে তারা স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের তৈরি পরবর্তী প্রজন্মের লুনার ল্যান্ডারের পরীক্ষামূলক সংস্করণের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার অনুশীলন করবেন।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এটি মূলত ২০২৮ সালের আর্টেমিস-৪ মিশনে চাঁদে অবতরণের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক মহড়া হিসেবে কাজ করবে।
ঘোষিত চার সদস্যের নেতৃত্বে থাকবেন অভিজ্ঞ নভোচারী র্যান্ডি ব্রেসনিক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মেরিন কর্নেল এবং এর আগে তিনবার মহাকাশে গেছেন, প্রায় ১৫০ দিন কক্ষপথে অবস্থান করেছেন এবং ৩২ ঘণ্টার বেশি স্পেসওয়াক সম্পন্ন করেছেন।
মিশনের পাইলট হিসেবে থাকবেন ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ইতালীয় নভোচারী লুকা পারমিতানো। তিনি দুইবার মহাকাশে গেছেন এবং আর্টেমিস কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রথম ইউরোপীয় নভোচারী হিসেবে ইতিহাস গড়বেন।
মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ফ্র্যাঙ্ক রুবিও, যিনি ২০২২-২৩ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে টানা ৩৭১ দিন অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম একক মহাকাশযাত্রার রেকর্ড গড়েছেন।
চতুর্থ সদস্য আন্দ্রে ডগলাস প্রথমবারের মতো মহাকাশ অভিযানে অংশ নেবেন। তিনি ২০২১ সালের নভোচারী ব্যাচে নির্বাচিত হন এবং এর আগে টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার ও ইউএস কোস্টগার্ডের রিজার্ভ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী এই মিশনে নভোচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথে এক বা একাধিক লুনার ল্যান্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা চালাবেন। পাশাপাশি ওরিয়ন মহাকাশযান ও নতুন প্রজন্মের স্পেসস্যুটের কার্যকারিতাও যাচাই করা হবে।
নাসার প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এই মিশনকে অত্যন্ত জটিল ও সমন্বিত একাধিক উৎক্ষেপণভিত্তিক অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এটি মানবজাতির চাঁদে ফিরে যাওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তিনি আরও জানান, এই মিশনে উন্নত প্রযুক্তির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, যা ভবিষ্যতে মানুষের আরও গভীর মহাকাশ অভিযানে সহায়তা করবে।
সব মিলিয়ে আর্টেমিস-৩ মিশন শুধু একটি চন্দ্র অভিযান নয়, বরং ভবিষ্যতের মহাকাশ অনুসন্ধানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



