বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রদর্শনী সিইএস ২০২৬-এর মঞ্চে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বচালিত যান এবং গ্রাফিক্স প্রযুক্তিতে একগুচ্ছ যুগান্তকারী উদ্ভাবনের ঘোষণা দিয়েছে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াং নিজেই মূল বক্তব্যে এসব নতুন প্রযুক্তির বিস্তারিত তুলে ধরেন।

এনভিডিয়া জানিয়েছে, তারা ‘ভেরা রুবিন’ নামে নতুন প্রজন্মের একটি সুপারকম্পিউটার আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এই শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারটি এনভিডিয়ার সর্বশেষ জিপিইউ আর্কিটেকচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিটি ভেরা সিপিইউতে রয়েছে ৮৮টি কাস্টম নির্মিত ‘অলিম্পাস’ কোর এবং ১ দশমিক ৫ টেরাবাইট সিস্টেম মেমোরি। এতে মোট ট্রানজিস্টরের সংখ্যা ২২৭ বিলিয়ন। অপরদিকে রুবিন জিপিইউতে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৩৬ বিলিয়ন ট্রানজিস্টর। একটি ভেরা রুবিন সুপারকম্পিউটারে একসঙ্গে দুটি সিপিইউ ও দুটি জিপিইউ যুক্ত থাকছে।
স্বচালিত যান প্রযুক্তিতেও বড় ঘোষণা দিয়েছে এনভিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটি উন্মোচন করেছে ওপেন-সোর্স এআই মডেলের নতুন সিরিজ ‘আলপামায়ো’। এর প্রধান সংস্করণ ‘আলপামায়ো-১’ হলো ১০ বিলিয়ন প্যারামিটারসমৃদ্ধ চেইন-অব-থট ভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা মানুষের মতো যুক্তি বিশ্লেষণ করে জটিল ড্রাইভিং পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এই এআই মডেলটি হঠাৎ তৈরি হওয়া বিপজ্জনক পরিস্থিতিকে একাধিক ছোট সমস্যায় ভাগ করে নিরাপদ সমাধান নির্ধারণ করে এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের যুক্তিসংগত ব্যাখ্যাও দিতে সক্ষম। পাশাপাশি ‘আলপাসিম’ নামে আরেকটি মডেল চালু করা হয়েছে, যা বাস্তবে খুব কম দেখা যায় এমন ড্রাইভিং পরিস্থিতি অনুশীলনের জন্য ক্লোজড-লুপ ট্রেনিংয়ে ব্যবহৃত হবে।
জেনসেন হুয়াং জানান, ২০২৫ সালের মার্সিডিজ-বেঞ্জ সিএলএ হবে প্রথম গাড়ি যেখানে এনভিডিয়ার পূর্ণাঙ্গ স্বচালিত যান প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, “আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য একদিন প্রতিটি গাড়ি ও ট্রাককে সম্পূর্ণ স্বচালিত করা।”
গেমিং ও ডিসপ্লে প্রযুক্তিতেও নতুন সংযোজন এনেছে এনভিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটি ডিএলএসএস ৪.৫ এবং জি-সিঙ্ক পালসার প্রযুক্তি উন্মোচন করেছে। ডিএলএসএস ৪.৫-এ দ্বিতীয় প্রজন্মের ট্রান্সফরমার মডেল ব্যবহারের ফলে গ্রাফিক্স আরও মসৃণ ও স্থিতিশীল হবে। এতে যুক্ত হচ্ছে ৬এক্স মাল্টি-ফ্রেম জেনারেশন ও ডাইনামিক ফ্রেম জেনারেশন সুবিধা, যা চলতি বসন্তেই চালু হওয়ার কথা।
অন্যদিকে, জি-সিঙ্ক পালসার প্রযুক্তিতে ডিসপ্লের ব্যাকলাইট পালসিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ১,০০০ হার্টজের সমমানের মোশন ক্ল্যারিটি পাওয়া যাবে বলে দাবি করেছে এনভিডিয়া। এসব ডিসপ্লে আশপাশের পরিবেশ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে উজ্জ্বলতা ও রঙের তাপমাত্রা সমন্বয় করতে পারবে। জি-সিঙ্ক পালসার ডিসপ্লের প্রথম ধাপের প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে ৭ জানুয়ারি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


