জুমবাংলা ডেস্ক : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রয়াত সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর পরিবার থেকেই ছয়জন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) হতে চান। তার দুই ছেলে, এক মেয়ে, জামাতাসহ ছয়জন পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এতে পরিবারটিতে বিভক্তির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

Advertisement

রোববার (১৯ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মুরাদ আলী মালিথা ছয়জনের দলীয় মনোনয়ন ফরম কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন ফরম উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর পরিবারে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। পারিবারিক সম্পর্ক ভালো থাকা তো দূরের কথা বর্তমানে কেউ কারও সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলেন না। নিজেরাই যদি এমন হয়ে চলাফেরা করেন তাহলে তারা আওয়ামী লীগের মতো দল পরিচালনা করবেন কীভাবে? নিজেরা যদি শৃঙ্খলা বজায় না রাখেন তাহলে মনোনয়ন পেয়ে এরা কী করবেন? পরিবারের এই দ্বন্দ্ব ঈশ্বরদী-আটঘরিয়াতে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করতে পারে।

মনোনয়ন ফরম কেনা ছয়জন হলেন- প্রয়াত শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর বড় ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গালিবুর রহমান শরীফ, মেজো ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাকিবুর রহমান শরীফ, মেয়ে জেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মাহজেবিন শিরিন, জামাতা (মাহজেবিনের স্বামী) ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, খালাতো ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বশির আহম্মেদ ও ভগ্নিপতি (খালাতো বোনের স্বামী) উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা চান্না মন্ডল।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, পাবনা-৪ সংসদীয় আসনটিতে শামসুর রহমান শরীফ ডিলু ১৯৯৬ সাল থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

২০২০ সালে শামসুর রহমান শরীফ ডিলু বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকে পৃথকভাবে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তার পরিবারের সদস্যরা। পরে উপনির্বাচনে শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর স্ত্রী কামরুন্নাহার, দুই ছেলে, মেয়ে, জামাতাসহ পরিবারের সাতজন মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন। সেই থেকে বিভক্তি শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যেও বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হয়। সেজন্য মনোনয়নবঞ্চিত হয় পরিবারটি। ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরে উপনির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাসকে। তিনি সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হন।

এরপরও ডিলু পরিবারের সদস্যরা হাল না ছেড়ে আবারও মনোনয়ন প্রত্যাশায় তারা পোস্টার-ব্যানার টানিয়ে ও মিছিল–মিটিং করে প্রচারণা শুরু করেন। বাড়ির সামনেও দেখা গেছে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে দুই ভাইয়ের পৃথক বিলবোর্ড। এতে পরিবারটির সঙ্গে দলের মধ্যেও চরম বিভক্তি তৈরি হয়। যা প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে পরিবারের ছয় সদস্যর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে।

এ বিষয়ে জানতে মাহজেবিন শিরিন পিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের পরিবারে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমরা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। সবাই ভালো ভালো পোস্ট-পদবিতে রয়েছি। যেহেতু আওয়ামী লীগ একটি বড় দল, তাই এর শাখা প্রশাখার পরিসর বৃহৎ। এজন্য আমরা দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছি। নেত্রী যাকে নৌকার মাঝি করবেন তার পক্ষে আমরা কাজ করব।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী সাকিবুর রহমান শরীফ বলেন, এখানে কোনো গ্রুপিং ও বিভক্তি নেই। সবার মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে। সবাই সবার মতো করে কাজ করছি। যে দলীয় মনোনয়ন পাবে তাকে বিজয়ী করতে কাজ করব।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, গালিবুর রহমান শরীফ দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে বসবাস করতেন। বাবা জীবিত থাকতে তিনি তেমন দেশে আসেননি। বাবার মৃত্যুর পর কয়েকমাস আগে অনুমোদন দেওয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পদ পাওয়ার পর অপর ছেলে সাকিবুর রহমান শরীফ মনোনয়ন প্রত্যাশা করার পর থেকে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। আর মেয়ে মাহজেবিন শিরিন বাবা জীবিত থাকতেই রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেব নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিজের পরিচয়েই আমার মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। কারণ আমি কোনো পরিবারের পরিচয়ে রাজনীতি করি না। ছাত্রলীগ, যুবলীগ করে আওয়ামী লীগে এসেছি। ঈশ্বরদী পৌরসভায় মেয়র হয়েছি। দলীয় কাউন্সিলরদের ভোটে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য কাজ করব। দলীয় বিরোধ নিরসনেও কাজ করব।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, তারা সবাই ছোটবেলা থেকে থেকেই ছাত্রলীগ এরপর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিন ভাইবোন জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে রয়েছেন। মনোনয়ন সবাই চাইতে পারেন। তবে একই পরিবার থেকে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশা শোভনীয় নয়।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল রহিম লাল বলেন, বাগানে অনেক ফুল ফুটবে এটাই স্বাভাবিক। নেত্রী বেচে নেবেন একটি। তবে দলের জন্য ক্ষতি হয় এমন কাজ কারও করা উচিত নয় বলে মনে করি। ঢাকা পোস্ট

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.