পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একটি শক্তিশালী সমুদ্রস্রোত ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। আটলান্টিক মহাসাগরের এই স্রোতের নাম আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন (AMOC)।

এই বিশাল জলপ্রবাহ আটলান্টিক অঞ্চলে উষ্ণ ও ঠান্ডা পানির আদান-প্রদানের মাধ্যমে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ভারসাম্য রাখতে সহায়তা করে। নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে উষ্ণ পানি উত্তর দিকে গ্রিনল্যান্ডের দিকে প্রবাহিত হয়। সেখানে ঠান্ডা হয়ে ভারী পানি গভীর সমুদ্রে নেমে যায় এবং আবার দক্ষিণ দিকে ফিরে আসে। এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে।
তবে সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই সমুদ্রস্রোত ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আরও কমে গেলে উত্তর ইউরোপে শীতকাল আরও তীব্র হতে পারে, যদিও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। একই সঙ্গে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা জানান, AMOC একটি জটিল ও ধীরগতির প্রক্রিয়া, যা সরাসরি চোখে দেখা সম্ভব নয়। এর পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের জন্য স্যাটেলাইট, সমুদ্রযান এবং উন্নত কম্পিউটার মডেলের সহায়তা নেওয়া হয়। তবে এর ভবিষ্যৎ ঠিক কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়নি।
গবেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়াটি দৃশ্যমান না হওয়ায় বিষয়টি জনসাধারণ ও মিডিয়ার নজরে তুলনামূলকভাবে কম আসে। বন উজাড় বা ঝড়ের মতো সরাসরি দৃশ্যমান ঘটনা বেশি আলোচনায় থাকলেও গভীর সমুদ্রের এই ধীর পরিবর্তন অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়।
তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, দৃশ্যমান না হলেও AMOC-এর পরিবর্তন বৈশ্বিক জলবায়ুর ওপর দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ বিষয়ে আরও গভীর গবেষণা ও নজরদারি জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



