Advertisement

সাইফুল ইসলাম : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর-দৌলতপুর-শিবালয়) আসনে প্রকাশ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে ওই আসনের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড়ে মোড়ে পিভিসি দিয়ে তৈরি রঙিন ব্যানার ও বিলবোর্ড ঝুলিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। অধিকাংশ স্থানে দুই দলের প্রার্থীদের ব্যানার-বিলবোর্ড পাশাপাশি ঝুলতে দেখা গেছে। এমনকি উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনেও এসব ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙানো থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরি ইউনিয়নের ক্রস ব্রিজ, বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড, শিবালয় উপজেলা পরিষদের সামনে টেপড়া বাসস্ট্যান্ড, উথলী মোড়, পাটুরিয়ার আরসিএল মোড়, আরিচা ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় পাশাপাশি রঙিন ব্যানার ও বিলবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছেন বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীর এবং জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু বকর সিদ্দিক।

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন পোস্টার, ব্যানার কিংবা ফেস্টুন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে প্লাস্টিক বা পিভিসি দিয়ে তৈরি কোনো প্রচার সামগ্রী ব্যবহারেরও কোনো বৈধতা নেই।

প্রার্থীদের প্রকাশ্যে এভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন কচি বলেন, “একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে গিয়ে আইন প্রণয়ন করবেন। অথচ নির্বাচনের আগেই যদি প্রার্থীরা আইন ভঙ্গ করেন, তাহলে উনাদের কাছে আমরা কি আইন আশা করতে পারি? বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

এ বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু বকর সিদ্দিকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীর বলেন, “আইন অনুযায়ী ১০ ফুট বাই ১৫ ফুটের বিলবোর্ড ব্যবহার আচরণবিধি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে না। তবে চার ফুট বাই ১০ ফুট সাদাকালো হওয়া বাধ্যতামূলক।”

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার বলেন, “এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। যেখানে যেখানে আচরণবিধির ব্যত্যয় ঘটছে, সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রার্থীদের বারবার সতর্ক করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু হয়েছে।”

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন বিলবোর্ড ব্যবহারের কোনো বিধান নেই। এটি স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন। কোথায় কোথায় রঙিন বিলবোর্ড ব্যবহার করা হয়েছে তা খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।”

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google